পুরসভায় তুলকালাম! বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘দা’ সম্বোধন মোদির? ফিরহাদকে ‘মিনি পাকিস্তান’ মনে করালেন সজল ঘোষ!

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বঙ্কিমদা’ সম্বোধন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবমাননার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন। এই ইস্যুতেই বৃহস্পতিবার পুরসভায় একটি নিন্দা প্রস্তাব আনেন কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। যা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকযুদ্ধ।

বঙ্কিম-বিতর্ক ও নিন্দা প্রস্তাব: অধিবেশনের শুরুতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করে বাংলার মনীষীদের অপমান করেছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে নিন্দা প্রস্তাব আনা হলে পরিস্থিতি গরম হতে শুরু করে।

ফিরহাদ বনাম সজল: লড়াই যখন ‘মিনি পাকিস্তান’ নিয়ে: আলোচনার এক পর্যায়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম যখন বিহারের রাজনীতি ও নীতিশ কুমারের প্রসঙ্গ তুলছিলেন, তখনই বিজেপি কাউন্সিলররা পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। বিজেপি বেঞ্চ থেকে মেয়রের সেই বিতর্কিত ‘মিনি পাকিস্তান’ মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

এর উত্তরে মেজাজ হারিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমি আদ্যোপান্ত ভারতীয় এবং আমি পাকিস্তানের বিরোধী। কেউ যদি দেখাতে পারে আমি ওই কথা বলেছি, তবে আমি রিজাইন (পদত্যাগ) করব।”

পাল্টা তোপ সজল ঘোষের: অধিবেশন শেষে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “উনি নিজেই তো মিনি পাকিস্তান বলেছিলেন। আমি নিশ্চয়ই ওঁর মন্তব্যের প্রমাণ দেখিয়ে দেব। এই কর্পোরেশনের মেয়র হয়ে তিনি কী করে বলতে পারেন যে অর্ধেক বাংলার মানুষ উর্দুতে কথা বলবেন?”

অধিবেশনে সাময়িক বিরতি: উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কাউন্সিলরদের মধ্যে হাতাহাতি হওয়ার মতো উপক্রম হয়। শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়ারপার্সন মালা রায় একটি গান গাইতে অনুরোধ করেন এবং সাময়িকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

বাংলার মনীষীদের সম্মান রক্ষা না কি পুরনো রাজনৈতিক সংঘাত— কোন পথে মোড় নেবে কলকাতা পুরসভার এই নতুন লড়াই? এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।