পণের জন্য ৫ লক্ষের দাবি! না মেটাতেই স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ, উত্তাল বারাসত।

পণের দাবির দানব আরও একবার প্রাণ কেড়ে নিল এক তরুণী গৃহবধূর। ৫ লক্ষ টাকা পণের দাবি মেটাতে না পারায় ২২ বছরের সুনিতা সরকারকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের অশ্বিনী পল্লী এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
লোভ ও অত্যাচারের ভয়াবহ কাহিনী: মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সৌম্য দত্ত ও তাঁর বাড়ির লোকজন পণের দাবিতে সুনিতার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। অভিযোগের পাহাড় জমছিল দীর্ঘদিন ধরেই:
টাকার দাবি: মাত্র দুদিন আগেও সুনিতা তাঁর বাবার কাছে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। মেয়েকে বাঁচাতে সেই টাকা পাঠিয়েও দিয়েছিলেন বাবা।
৫ লক্ষের দাবি: ১০ হাজারে মন ভরেনি শ্বশুরবাড়ির। এর পরেই সরাসরি ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয় চূড়ান্ত অত্যাচার।
খুনের অভিযোগ: পরিবারের দাবি, বুধবার রাতে সুনিতাকে প্রচণ্ড মারধরের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশি পদক্ষেপ: ঘটনার পর সুনিতার বাবা বারাসত থানায় জামাই সৌম্য দত্ত এবং শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই স্বামী সৌম্য দত্তকে গ্রেফতার করেছে বারাসত থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শোকাতুর পরিবার: সুনিতার বাবার আক্ষেপ, “টাকা দিয়েও মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।” মাসখানেক ধরে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রতিবেশীরাও।
বারাসতের এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সমাজের বুক থেকে ‘পণ প্রথা’র অভিশাপ এখনও মুছে যায়নি। অভিযুক্ত স্বামী ধরা পড়লেও বাকিরা পলাতক। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।