“কেউ কাঁটাতার টপকাচ্ছে না তো?”-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল অসম

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল সীমান্তে। প্রতিবেশী দেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নাশকতার আশঙ্কায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল অসমের কাছাড় জেলা প্রশাসন। সীমান্তে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকা।
জারি হল ১৬৩ ধারা: কঠোর নজরদারিতে সীমান্ত কাছাড়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৃদুল যাদব ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই জরুরি আদেশ জারি করেছেন। প্রশাসনের আশঙ্কা, দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতীরা ভারতে ঢুকে অভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।
কী কী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে? বুধবার জারি করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশকে বিভক্ত করা সুরমা নদী এবং তার সংলগ্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে কোনও গতিবিধি বরদাস্ত করা হবে না।
মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য কড়া বার্তা:
-
মাছ ধরায় বাধা: সুরমা নদীতে স্থানীয়রা মাছ ধরতে পারলেও তার জন্য ‘কাটিগড়াহ সার্কেল অফিসার’-এর কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে।
-
পণ্য পরিবহনে রাশ: সীমান্ত সংলগ্ন ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চিনি, চাল, ভোজ্য তেল ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে কঠোর বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। মূলত গরু পাচার ও কালোবাজারি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত।
সমন্বয়ে প্রশাসন ও বিএসএফ: দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই নির্দেশের প্রতিলিপি ইতিমধেই ঢলচেরার বিএসএফ (BSF) কমান্ড্যান্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, রাতের অন্ধকারে পাচার ও অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে দেশের নিরাপত্তা বড়সড় হুমকির মুখে পড়তে পারে। আগামী কয়েকদিন এই এলাকায় বিএসএফ-এর টহলদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানা গিয়েছে।