পড়াশোনা লাটে, চলছে টাকার খেলা! রতুয়ার নামী মাদ্রাসায় মিড-ডে মিল দুর্নীতির পর্দাফাঁস, বিডিও-র দ্বারস্থ গ্রামবাসীরা

এক সময় উত্তর মালদহের গর্ব ছিল রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের ভাদো গ্রাম পঞ্চায়েতের বটতলা আদর্শ হাই মাদ্রাসা। কিন্তু বর্তমানে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়েছে এক বড়সড় কেলেঙ্কারিতে। মিড-ডে মিলের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাজিরায় কারচুপি— প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ নিয়ে এবার রাস্তায় নামলেন গ্রামবাসীরা।
খাতা-কলমে কারসাজি: বটতলা মাদ্রাসায় বর্তমানে ২ হাজার ৪১৩ জন পড়ুয়া রয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিল প্রকল্পের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সাদ। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে:
প্রতিদিন যত সংখ্যক পড়ুয়া খাবার খায়, সরকারি খাতায় তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সংখ্যা দেখানো হয়।
কখনও কখনও প্রকৃত সংখ্যার থেকে তিন গুণ বেশি পড়ুয়া দেখিয়ে টাকা তোলা হয়।
ইনজামাম উল হক নামে এক গ্রামবাসীর দাবি, “যদি ২ জন পড়ুয়া খায়, খাতায় দেখানো হয় ৫ জন।”
শিকেয় উঠেছে পঠনপাঠন: দুর্নীতির আঁচ শুধু মিড-ডে মিলেই থেমে নেই। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষক মাদ্রাসায় না এসেও পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় সই করছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাড়তি ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে এক সময় জেলার অন্যতম সেরা মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
বিডিও-র কড়া বার্তা: ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সুব্রত বাউল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, “মিড-ডে মিল প্রকল্পের আধিকারিককে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ম্যানেজিং কমিটি এবং স্কুল ইনস্পেক্টরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
চুপচাপ প্রধান শিক্ষক: গোটা ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সাদ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, “যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেই বলব।”
প্রশাসনের তদন্তে যদি দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে শাস্তির দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।