রাতের অন্ধকারে জ্বলল চিতা! ঝাড়গ্রামে বিধ্বংসী আগুনে ছাই আস্ত বাড়ি, জীবন্ত দগ্ধ বৃদ্ধ

মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল ঝাড়গ্রাম জেলার বেলিয়াবেড়া থানার তাল গ্রাম। মুহূর্তের অসতর্কতায় চোখের পলকে ছাই হয়ে গেল একটি সাজানো মাটির দোতলা বাড়ি। আর সেই আগুনেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য মঙ্গল মল্লিক (৭২)। ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

যমদূত হয়ে এল আগুন: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ মঙ্গল মল্লিকের মাটির বাড়ির দোতলায় আচমকাই আগুন লাগে। বাড়িটি ঘিঞ্জি এলাকায় হওয়ায় দ্রুত আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বৃদ্ধের পুত্রবধূ সবিতা মল্লিক বাইরে থাকলেও বাড়িতে ছিলেন তাঁর শাশুড়ি সন্ধ্যা মল্লিক। জীবন বাজি রেখে সবিতাদেবী তাঁর শাশুড়ি এবং গোয়ালে থাকা ছাগলগুলিকে আগুনের মুখ থেকে টেনে বের করতে সক্ষম হলেও, দোতলায় আটকে পড়েন শ্বশুরমশাই মঙ্গল মল্লিক।

উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের তৎপরতা: আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে প্রতিবেশীদের চেষ্টা সত্ত্বেও বৃদ্ধকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঝাড়গ্রাম থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সব শেষ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মঙ্গলবাবুকে তপসিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছান গোপীবল্লভপুর ২ ব্লকের বিডিও রাহুল বিশ্বাস এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিনিধিরা। সর্বস্ব হারানো দুই মহিলার হাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, কম্বল, বাসনপত্র ও পোশাক তুলে দেওয়া হয়েছে।

আগুনের উৎস কী? পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়ির দোতলায় রান্নার সময় উনুনের আগুন অথবা মজুত থাকা জ্বালানি কাঠ থেকেই এই বিপর্যয়। তবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে নিরাশ্রয় দুই মহিলা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। উল্লেখ্য, বৃদ্ধের ছেলে ঝন্টু মল্লিক কাজের সূত্রে বর্তমানে মণিপুরে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পরিবারটিকে কার্যত পথে বসিয়ে দিল।