একবালপুরে হাড়হিম করা কাণ্ড! অ্যাসিড খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যুতে জাভেদ-সহ গ্রেফতার ৫, নেপথ্যে কি কোনো গভীর ষড়যন্ত্র?

দক্ষিণ কলকাতার একবালপুরে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ৪৮ বছর বয়সী নাসিমা বেগম নামে ওই গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে তিন মহিলাও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? একবালপুর লেন এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নাসিমা বেগম মঙ্গলবার সকালে আচমকাই বাড়িতে অ্যাসিড জাতীয় তরল পদার্থ পান করেন। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে একে নিছক আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, ঘটনার মোড় ঘোরে নাসিমার দিদির অভিযোগে।
মানসিক নির্যাতন ও ৫ জনের নাম: মৃতের দিদি সাহিনা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানান, নাসিমাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে হেনস্থা ও চরম চাপে রেখেছিলেন কয়েকজন প্রতিবেশী। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন— জাভেদ একবাল, মহম্মদ ওয়াসিম, ইয়াসমিন বেগম, সালমা খাতুন ও ফারজানা হোসেন।
তদন্তে পুলিশের হাতে কী এল? কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, পুলিশ নাসিমার বাড়ি থেকে একটি অ্যাসিডের পাত্র এবং তাঁর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে। মোবাইলের কল লিস্ট ও মেসেজ খতিয়ে দেখে এটা বোঝার চেষ্টা চলছে যে, শেষ মুহূর্তে তাঁর ওপর কী ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে নাসিমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিলেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ: মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে এলে এবং ধৃতদের জেরা করলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কোনো পুরোনো বিবাদ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে। একবালপুর থানার পুলিশ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে।