বোরখা না পরে বাপের বাড়ি যাওয়াই কাল! স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাকে খুন করে সেফটি ট্যাঙ্কে পুঁতে রাখল পাষণ্ড স্বামী!

বোরখা পরতে অস্বীকার করা এবং তা নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। আর তার জেরেই নিজের স্ত্রী ও দুই নাবালিকা কন্যাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করে ঘরের ভেতরেই পুঁতে রাখল এক ব্যক্তি। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার কান্ধলা থানার গারহিদৌলত গ্রামে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনার সূত্রপাত: পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ফারুকের সঙ্গে তার স্ত্রী তাহিরার (৩২) দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। প্রায় এক মাস আগে ঝগড়া করে বোরখা না পরেই দুই মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান তাহিরা। বোরখা না পরে স্ত্রীর এভাবে ঘর ছাড়াটা মেনে নিতে পারেনি ফারুক। সেই আক্রোশ থেকেই সে খুনের পরিকল্পনা করে।

খুনের হাড়হিম করা বর্ণনা: গত ১০ ডিসেম্বর তাহিরা বাড়ি ফিরলে ফারুক চরম পথ বেছে নেয়। সে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বাকি তিন সন্তানকে দাদুর বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে তখন কেবল স্ত্রী এবং ১২ বছরের আফরিন ও ৫ বছরের সারিন ছিল। ফারুক প্রথমে তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির আওয়াজ শুনে বড় মেয়ে আফরিন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকেও গুলি করে সে। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য ৫ বছরের ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে পাষণ্ড বাবা।

সেফটি ট্যাঙ্কেই তৈরি হল কবর: খুন করার পর ফারুক বাড়ির উঠোনে সেফটি ট্যাঙ্কের জন্য খুঁড়ে রাখা একটি গর্তে তিনজনের মৃতদেহ পুঁতে দেয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিষয়টি গোপন থাকলেও শেষরক্ষা হয়নি। ফারুকের বাবা দাউদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করলে পুলিশ ফারুককে জেরা শুরু করে। প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও কড়া জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ কবুল করে সে।

পুলিশি পদক্ষেপ: এসপি নরেন্দ্র প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গর্ত খুঁড়ে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। খুনে ব্যবহৃত পিস্তল ও কার্তুজও উদ্ধার করেছে পুলিশ।”

পরিবারের লোকেদের বয়ান অনুযায়ী, ফারুকের উগ্র মানসিকতাই এই ভয়াবহ পরিণতির কারণ। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।