থেমে গেল একতারা, নিভে গেল প্রাণপ্রদীপ! অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফেরার পথে ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু নামী বাউল শিল্পীর!

সুরের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অনুষ্ঠান সেরে মোটরবাইকে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় বাউল শিল্পী ঝন্টু হাজরা (৩৪)। মঙ্গলবার গভীর রাতে বীরভূমের নানুর থানার নতুনগ্রামের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে? পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাউল শিল্পী ঝন্টু হাজরা মঙ্গলবার রাতে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে নিজের মোটরবাইকে চড়ে কেতুগ্রামের খাসপুরে ফিরছিলেন তিনি। নানুর থানার নতুনগ্রামের কাছাকাছি আসতেই একটি দ্রুতগতির ডাম্পারের সঙ্গে তাঁর বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি।
উদ্ধার ও মর্মান্তিক পরিণতি: সেই সময় ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিল নানুর থানার একটি পুলিশ ভ্যান। পুলিশ কর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় ঝন্টুবাবুকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি মঙ্গলকোট ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ভোরবেলায় খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান তাঁর আত্মীয়রা। প্রিয়জনের এমন আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পীর পরিবার ও অনুরাগী মহলে।
পুলিশি তদন্ত: মৃতের আত্মীয় মন্টু হাজরা জানিয়েছেন, “ভাই বাউল গান সেরে বাড়ি ফিরছিল। ভোরবেলায় খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি সব শেষ।” পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘাতক ডাম্পারটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে।
রাজ্যে পথ নিরাপত্তা নিয়ে বারংবার সতর্ক করা হলেও বীরভূমের এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল রাতের নিরাপত্তা নিয়ে। সুরের আঙিনায় ঝন্টু হাজরার এই অকালপ্রয়াণ এক বড় শূন্যতা তৈরি করল।