জ্যান্ত মানুষকে ‘মৃত’ বানিয়ে দিল কমিশন! বাগডোগরায় ভোটার তালিকা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রৌঢ়া।

সারা রাজ্যে যখন ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরায় সামনে এল এক চরম গাফিলতির ছবি। সুস্থ-সবল শরীরে বেঁচে থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত খসড়া তালিকায় ৫৮ বছরের এক প্রৌঢ়াকে দেখানো হয়েছে ‘মৃত’ হিসেবে। এই ঘটনায় কেবল ওই প্রৌঢ়া নন, স্তম্ভিত গোটা এলাকা।
ঘটনার বিবরণ: বাগডোগরার বিবেকানন্দপল্লির বাসিন্দা শিবানী পাল। তাঁর বুথ হলো গান্ধি স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মঙ্গলবার খসড়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি দেখেন, তাঁর স্বামী ও মেয়ের নাম তালিকায় থাকলেও তাঁর নামের পাশে বড় করে লেখা রয়েছে ‘মৃত’। শিবানী পালের অভিযোগ, তিনি নিয়ম মেনে এসআইআর (SIR) ফর্ম পূরণ করে বিএলও-র কাছে জমা দিয়েছিলেন। তারপরেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা ভেবেই তিনি এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর বয়ান: কান্নাভেজা গলায় শিবানী পাল বলেন, “তালিকা দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। আমি বেঁচে থাকতেও আমাকে কেন মৃত দেখানো হচ্ছে? বিএলও-কে ফোন করলে তিনি বলছেন পরে দেখবেন। এই ভুলের কারণে আমার মতো কত মানুষকে যে ভোগান্তিতে পড়তে হবে কে জানে!”
বিএলও বনাম পঞ্চায়েত প্রধান: অদ্ভূত বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট বিএলও দাবি করেছেন যে তিনি কোনোভাবেই ওই মহিলার নাম ‘মৃত’ তালিকায় পাঠাননি। তাঁর তালিকায় শিবানী পাল জীবিতই আছেন। তাহলে কমিশনের সার্ভারে এই পরিবর্তন কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, আপার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জীব সিনহা এই ঘটনায় সরাসরি চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “বৈধ ও জীবিত ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এসআইআরের নামে চক্রান্ত করছে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাব।”
নির্বাচন কমিশনের এই ভুল নিয়ে এখন বাগডোগরা জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রশাসন যাতে দ্রুত এই যান্ত্রিক বা মানবিক ত্রুটি সংশোধন করে শিবানী পালকে তাঁর ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়, সেই দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।