বিদ্যুৎ কর্মীদের গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় বর্বরতা! ছাতনার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে হাতকড়া পরালো পুলিশ।

কর্তব্যরত বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার ছাতনা। তার সংলগ্ন গাছ কাটতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হলো খোদ সরকারি কর্মীদের। তাঁদের দড়ি দিয়ে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত রোহিত মণ্ডলকে (৪২) গ্রেফতার করেছে ছাতনা থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ছাতনার বিন্দনা গ্রামে ১১ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লাইনের তারে ঠেকে থাকা একটি গাছ কাটার উদ্যোগ নিলে বাধা দেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। এই নিয়েই শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, সেই সময় চরম উত্তেজিত হয়ে রোহিত মণ্ডল ও তাঁর সঙ্গীরা বিদ্যুৎ কর্মী মেঘনাথ সরেন ও গুরুপদ হাঁসদাকে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। এরপর তাঁদের ওপর চলে বেধড়ক মারধর।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কর্মীরা: এই হামলায় গুরুতর জখম হন দুই বিদ্যুৎ কর্মী। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের দ্রুত বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ দপ্তরের বাঁকুড়া ডিভিশনের পক্ষ থেকে ছাতনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত রোহিত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।

বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের ওপর এই ধরণের হামলার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সহকর্মীরা। ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।