‘বাঙালিরা দুর্বল নয়!’ ওড়িশায় বাঙালি বিতাড়নের বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহাগর্জন, কাঁপল উৎকল ভবন।

ওড়িশার মাটিতে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার এবং সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের উৎখাত করার গুরুতর অভিযোগে এবার উত্তাল হয়ে উঠল তিলোত্তমার রাজপথ। মালকানগিরি জেলায় বসবাসকারী বাঙালিদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে গ্রামছাড়া করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধর্মতলা থেকে মিছিল বের করে ‘জাতীয় বাংলা সম্মেলন’। মিছিলটি ধর্মতলা থেকে শুরু হয়ে সরাসরি পৌঁছায় সল্টলেকের উৎকল ভবনে, যেখানে ওড়িশা সরকারের প্রতিনিধির হাতে কড়া ভাষায় স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
বাঙালি-বিদ্বেষী প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগ: জাতীয় বাংলা সম্মেলনের সভাপতি সিদ্ধব্রত দাস ওড়িশার বিজেপি সরকারকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাঙালিরা দুর্বল নয়। অবিলম্বে মালকানগিরি-সহ ওড়িশার প্রতিটি প্রান্তে বাঙালিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এই বিদ্বেষমূলক প্রোফাইলিং কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বাঙালি শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের হেনস্থা করছে উগ্র কিছু সাম্প্রদায়িক সংগঠন।
মালকানগিরির ‘এমভি ২৬’ গ্রামে বিভীষিকা: আন্দোলনকারীদের দাবি, মালকানগিরির এমভি ২৬ (MV 26) গ্রামে যা ঘটছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। ১৯৫৮ সাল থেকে ওই অঞ্চলে পুনর্বাসিত হওয়া বাঙালিদের বর্তমানে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে। সিদ্ধব্রত দাসের দাবি, “বর্তমানে ওই গ্রাম পুরুষশূন্য। মা-বোনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অথচ পুলিশ প্রশাসন সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”
বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি: সম্মেলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজেপি সরকার যদি অবিলম্বে এই বর্বরোচিত আক্রমণ বন্ধ না করে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়, তবে আগামী দিনে ওড়িশা ভবনের সামনে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভিটেছাড়া করার এই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শেষ দেখে ছাড়বে বাংলা সম্মেলন।
ওড়িশা ও বাংলার এই সীমান্ত সংঘাত এবং জাতিগত বিদ্বেষের ছায়া এখন দুই রাজ্যের সম্পর্কের ওপর নতুন করে কালো মেঘের সৃষ্টি করেছে।