“ও তো খুনি নয়, জেল খাটছে কেন?” মেসির অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খুললেন অভিজ্ঞ আয়োজক।

যুবভারতীতে লিওনেল মেসির ‘গোট’ (GOAT) ট্যুরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তাতে মুখ পুড়েছে বাংলার। শুধু দেশীয় সংবাদমাধ্যম নয়, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমেও এই বিশৃঙ্খলার খবর ফলাও করে ছাপা হয়েছে। এই ঘটনায় আয়োজক শতদ্রু দত্ত বর্তমানে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে। এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে গোটা ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করলেন প্রখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক ভাস্বর গোস্বামী— যিনি ২০১১ সালে মেসির ঐতিহাসিক ম্যাচ এবং মারাদোনার কলকাতা সফর সফলভাবে আয়োজন করেছিলেন।

দায় পুরোপুরি আয়োজকের: ভাস্বর গোস্বামী স্পষ্ট জানান, শতদ্রুর জেল খাটায় তিনি ব্যথিত হলেও এর দায় আয়োজককেই নিতে হবে। তিনি বলেন, “শতদ্রু কোনো খুন করেনি, ও মেসিকে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু দর্শক যখন হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেনেন, তখন তাঁদের অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব আয়োজকেরই। আমি ২০১১-তে যখন মেসিকে এনেছিলাম, তখন গণ্ডগোল হলে দর্শক কি আমাকে ছেড়ে দিত?”

ভুল পরিকল্পনা ও রাজনীতির প্রাধান্য: ভাস্বরের মতে, পুরো ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টেই গলদ ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের সময়ে কি রাজনীতিবিদরা ছিলেন না? তাঁরা কি মেসি-মারাদোনার সঙ্গে ছবি তুলতে চাননি? কিন্তু রাশটা নিজের হাতে রাখতে হবে। মেসিকে দেখার জন্য মানুষ পাগল হবে, এটা বোঝার জন্য পণ্ডিত হতে হয় না। আয়োজক হিসেবে শতদ্রু রাজনৈতিক নেতাদের সামনে রাশ আলগা করে দিয়েছিলেন।”

কী করা উচিত ছিল? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ভাস্বর জানান, পরিকল্পনা ঠিক থাকলে এই ‘জাতীয় লজ্জা’ এড়ানো যেত। তাঁর কথায়, “আমি থাকলে মাঠের ধারে হুডখোলা গাড়ি রাখতাম। মেসিকে গাড়িতে বসিয়ে বলতাম মাঠ খালি না হলে ও নামবে না। কয়েকশো বল স্বাক্ষর করে গ্যালারিতে ছুড়লে দর্শকরা খুশি মনে ফিরতেন। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব আর ছবির ফ্রেমে থাকার নেশায় সব ঘেঁটে গেল।”

আয়োজকদের ব্যবসায় বড় ধাক্কা: ভাস্বর ক্ষোভের সঙ্গে জানান, শতদ্রুকে যেভাবে মুখ ঢেকে চোর-ডাকাতের মতো পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে তাঁর রাগ হচ্ছে। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, এই ঘটনা কলকাতায় বড় ইভেন্ট আয়োজনের ব্যবসায় বড়সড় ধাক্কা দিল। মুম্বাই বা হায়দরাবাদে যা সম্ভব হলো, কলকাতায় কেন তা বিশৃঙ্খলায় রূপ নিল, সেই প্রশ্নই এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ক্রীড়া বিশ্বকে।