অগ্নিগর্ভ ঢাকা! ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে ইউনূস সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল্লির

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পারদ এখন তলানিতে। বুধবার বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অফিস ঘেরাওকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো চরম বিশৃঙ্খলা। ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠনের এই কর্মসূচির জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে বেলা ২টোর মধ্যেই বন্ধ করে দিতে হয় হাইকমিশন। এই ঘটনায় মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে তলবঢাকার পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বুধবার সকালেই দিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হাইকমিশন এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লি অত্যন্ত চিন্তিত। ভারত মনে করছে, বিক্ষোভকারীদের আটকাতে বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।হাসিনা প্রত্যর্পণের দাবিতে তোলপাড়বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি— শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, হাসিনার প্রত্যর্পণে চাপ সৃষ্টি করতে অকারণ এই অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার খবরও দিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগবিজয় দিবসের প্রাক্কালে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ডেকে পাঠিয়ে যে ব্যবহার করেছে, তাতে ভারত অত্যন্ত বিরক্ত। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করা হয়েছে যে, ঢাকায় রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলায় অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়েছে। দিল্লির পাল্টা বক্তব্য, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই হাই কমিশনারকে ডেকে এ ধরনের কথা বলা সম্পূর্ণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী।বর্তমান পরিস্থিতি:অবরুদ্ধ এলাকা: ঢাকার বারিধারা এলাকায় হাইকমিশন অফিসের অদূরেই অবস্থান করছে বিক্ষোভকারীরা।নিরাপত্তা ঝুঁকি: ভারত বিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।দিল্লির অবস্থান: অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত।সব মিলিয়ে, ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় উৎসবের আবহে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।সাম্প্রতিক টানাপড়েনের মূল কারণসমূহবিষয়ভারতের অবস্থানবাংলাদেশের অবস্থানহাইকমিশন ঘেরাওনিরাপত্তার অভাব ও সরকারি গাফিলতি।জনরোষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চেষ্টা।শেখ হাসিনাআইনি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।অবিলম্বে প্রত্যর্পণের দাবি।অভিযুক্তের সন্ধানতথ্যপ্রমাণ ছাড়া অভিযোগ ভিত্তিহীন।অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়েছে বলে দাবি।