‘পাগলু’ প্রেমিকার ভয়ে কাঁটা পুলিশ অফিসার! রক্ত দিয়ে চিঠি থেকে মন্ত্রীদের তদ্বির, বেঙ্গালুরুতে তুঙ্গে নাটক

সিনেমায় ‘স্টকার’ বা পিছু নেওয়া অপরাধীদের কথা তো অনেক শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে সেই যন্ত্রণায় যদি খোদ পুলিশের রাতের ঘুম ওড়ে? ঠিক এমনটাই ঘটছে বেঙ্গালুরুর রামামূর্তি নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার সতীশ জিজে-র সঙ্গে। এক মহিলার একতরফা প্রেমের জ্বালায় এখন বাড়ি থেকে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন এই পুলিশ ইন্সপেক্টর।
হোয়াটসঅ্যাপ থেকে শুরু, তারপর ব্ল্যাকমেল ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ অক্টোবর। সতীশের ফোনে সঞ্জনা ওরফে ভজনা নামে এক মহিলার মেসেজ আসে। প্রথমে মজা মনে করলেও দ্রুতই তা আতঙ্কে রূপ নেয়। সতীশ নম্বর ব্লক করলে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে ফোন করতে শুরু করেন ওই মহিলা। নিজেকে ‘কংগ্রেস নেত্রী’ দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি পাঠিয়ে ভয় দেখাতে শুরু করেন তিনি। সতীশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে খোদ উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেও ফোন করান ওই রহস্যময়ী মহিলা।
রক্ত দিয়ে লেখা চিঠি ও আত্মহত্যার হুমকি মহিলার স্পর্ধা এতটাই বেড়ে যায় যে, গত ৭ নভেম্বর তিনি থানায় এসে সতীশের জন্য একটি খাম রেখে যান। সেই খামের ভেতরে ছিল রক্ত দিয়ে লেখা তিনটি প্রেমপত্র এবং ঘুমের ওষুধের পাতা। চিঠিতে সাফ লেখা ছিল— প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। শুধু তাই নয়, সতীশের অনুপস্থিতিতে তাঁর আত্মীয় সেজে থানায় ঢুকে টেবিলের ওপর ফুলের তোড়া ও মিষ্টির বাক্স রেখেও আসতেন তিনি।
সিরিয়াল স্টকার? পুলিশি তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, সতীশই প্রথম নন, এর আগেও বেঙ্গালুরুর একাধিক সিনিয়র ও জুনিয়র পুলিশ অফিসারকে এভাবেই প্রেমের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন এই মহিলা। কাউন্সেলিং করতে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। গত ১২ ডিসেম্বর থানায় ঢুকে সবার সামনে নিজের প্রেম জাহির করা শুরু করলে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে সতীশের।
অবশেষে উপায় না দেখে নিজের সম্মান ও প্রাণ বাঁচাতে ওই মহিলার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন অসহায় এই পুলিশ অফিসার।