কেস ডায়েরি এড়িয়ে কীভাবে জামিন? রাজগঞ্জের বিডিও-র মামলায় নিম্ন আদালতকে নজিরবিহীন ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

সোনার ব্যবসায়ী খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জ ব্লকের বিতর্কিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনের জামিন ঘিরে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করল কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত কেন এবং কিসের ভিত্তিতে তাঁকে জামিন দিল, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
নিম্ন আদালতের ভূমিকায় প্রশ্ন এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানতে চান, যখন অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে কেস ডায়েরি (Case Diary) মজুত ছিল, তখন সেটি খতিয়ে না দেখে শুধুমাত্র সরকারি কৌঁসুলির মৌখিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে জামিন দেওয়া হলো? আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই জামিন প্রক্রিয়ার মধ্যে বড়সড় অসঙ্গতি রয়েছে যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট রাজগঞ্জ ব্লকের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে এক সোনার ব্যবসায়ীকে খুনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বারাসাত আদালত তাঁকে আগাম জামিন দিলেও, সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে কিছু টেকনিক্যাল প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, জামিন খারিজের আবেদনের পদ্ধতিতে ত্রুটি রয়েছে।
বিচারপতির কড়া নির্দেশ:
হলফনামা জমা: অভিযুক্ত বিডিও-র আইনজীবীকে আগামী শুক্রবারের মধ্যে সমস্ত যুক্তি হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে।
পরবর্তী শুনানি: এই হাই-প্রোফাইল মামলার ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী শুক্রবারই। ওইদিন আদালত সিদ্ধান্ত নেবে প্রশান্ত বর্মনের জামিন বহাল থাকবে নাকি তাঁকে হেফাজতে যেতে হবে।
নিম্ন আদালতের বিচারপতির বিচক্ষণতা নিয়ে উচ্চ আদালতের এই প্রশ্ন তোলা রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কৌঁসুলির ভূমিকাও এখানে আতশিকাঁচের তলায়।