কালীপুজোর শোভাযাত্রায় মর্মান্তিক পরিণতি! জেনারেটরের ইঞ্জিনে চুল জড়িয়ে প্রাণ গেল ফার্মাসিস্ট তরুণীর, এলাকায় শোকের ছায়া

কালীপুজো উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রার আনন্দ মুহূর্তে গভীর শোকে পরিণত হলো তমলুকের কাশিপুর এলাকায়। জেনারেটরের ইঞ্জিনে চুল জড়িয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো সুচরিতা বেরা (২৬) নামে এক তরুণীর। জানা গেছে, সামনেই তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

কী ঘটেছিল শুক্রবার সন্ধ্যায়?

দুর্ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সন্ধ্যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কালীপুজোর ঘট উত্তোলনের শোভাযাত্রা চলছিল। পাড়া জুড়ে উৎসবের আবহে সবাই মেতে ছিলেন। এই সময়ে সুচরিতা কিছুক্ষণ নাচার পর বিশ্রাম নিতে অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটর ভ্যানের দিকে এগিয়ে যান।

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই সময় আচমকাই চলন্ত জেনারেটরের ফ্যানে তাঁর ওড়না এবং পরে মাথার চুল আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই মেশিনে টেনে নেয়, ফলে গুরুতরভাবে আহত হন সুচরিতা।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা:

সুচরিতার চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষজন এবং স্থানীয় পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে পরিবার:

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের আলো নিভে যায়, নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। মৃতার মামা, সুজিত মাইতি, জানান, “তমলুক কোর্টে কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎই বাড়ি থেকে ফোন আসে দুর্ঘটনার খবর। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি, ভাগ্নি আর নেই। আমরা সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”

মৃতার পরিচয়: সুচরিতা বেরা কলকাতায় ফার্মাসিস্ট পড়তেন। তাঁর বাবা রবীন্দ্রনাথ বেরা রাজ্যের নবান্ন ভবনে গ্রুপ-ডি কর্মী হিসাবে কর্মরত।

বিচ্ছেদ: পরিবার সূত্রে খবর, সামনেই সুচরিতার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই শুভ মুহূর্তের আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

সুচরিতা এলাকায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ছোট ছেলেমেয়েদের যোগব্যায়াম এবং কবিতা আবৃত্তি শেখাতেন। এমন স্বভাবের মেয়ের এমন অকালমৃত্যু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীরা পুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত শুরু:

তমলুক থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। ঠিক কী ভাবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তমলুক থানার পুলিশ জানিয়েছে।