রাজনীতিতে তারকাদের আগমন নিয়ে বিতর্ক, নাম না করে কঙ্গনাকে খোঁচা তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার

রাজনীতি ও অভিনয় জগতের সম্পর্ক বহু পুরনো হলেও, তারকাদের রাজনীতিতে যোগদান ঘিরে বিতর্ক বরাবরই বিদ্যমান। এবার সেই বিতর্ক নতুন করে উসকে দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha)। পরোক্ষভাবে বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতকে (Kangana Ranaut) নিশানা করে তিনি তারকাদের রাজনৈতিক জ্ঞান ও দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।
শত্রুঘ্ন সিনহা সরাসরি বলেছেন, “রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় কেবল জনপ্রিয়তার জন্য চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে নিয়ে আসে, কিন্তু তাদের ন্যূনতম রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক জ্ঞানও দেওয়া হয় না। এর ফলস্বরূপই বিব্রতকর মন্তব্য, বিতর্ক এবং দ্রুত রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।” তাঁর মতে, “নির্বাচন জিততে সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করা হয়, শাসন ব্যবস্থা পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।”
ধর্মেন্দ্রর প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ:
২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিকানের থেকে বিজেপির সাংসদ ছিলেন অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। কেন তিনি এরপর রাজনীতি ছেড়ে দিলেন—সেই প্রসঙ্গে সিনহা বলেন, এর দায় অভিনেতা এবং তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা রাজনৈতিক দল উভয়েরই।
তিনি বলেন, “যারা তাকে নিয়ে এসে নির্বাচন লড়িয়েছিল, তারাও দায়ী। ভোটের দরকার পড়লে তারকাদের আনা হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই ফলো-আপ নেই, দিকনির্দেশ নেই, প্রশিক্ষণ নেই।” সেলিব্রিটিদের দায়িত্ব দেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তাদের ব্রিফ করা ও যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া—এই বিষয়ে তিনি জোর দেন।
‘ভারত কবে স্বাধীন হয়েছে, অন্তত বলুন’:
এরপরেই কঙ্গনা রানাওয়াতের (Kangana Ranaut) সেই বহুল বিতর্কিত মন্তব্যের (যেখানে তিনি ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতাকে ‘ভিক্ষা’ এবং ২০১৪ সালের স্বাধীনতাকে ‘আসল স্বাধীনতা’ বলেছিলেন) পরোক্ষ উল্লেখ করে নাম না করেই খোঁচা দেন শত্রুঘ্ন সিনহা।
তিনি বলেন, “কমপক্ষে তাদের বলুন, ভারত কবে স্বাধীন হয়েছে।” সেলিব্রিটিদের রাজনীতির মৌলিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শত্রুঘ্ন আরও বলেন, “জনসম্মুখে কথা বলার আগে অন্তত কিছু সাধারণ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নেতা-অভিনেতা বিতর্ক উসকে দিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা ফের কঙ্গনাকেই আক্রমণ করলেন।