মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলাতে কৌশল! ওমানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন, কী লাভ হবে দেশের?

ভারতের উপর মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারত এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রফতানি বাড়ানোর উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, উপসাগরীয় দেশগুলির (GCC) সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন সস্তা তেল আমদানি করা যাবে, তেমনই অন্যদিকে রফতানিও সর্বাধিক করার সুযোগ মিলবে।
আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) জর্ডান, ইথিওপিয়া এবং ওমান সফরের আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ওমানের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) অনুমোদন করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে চুক্তি অনুমোদন:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভারত এবং ওমানের মধ্যে কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (CEPA), যা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নামেও পরিচিত, তা শুক্রবার অনুমোদন করেছে। এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর দ্বিতীয় ওমান সফর সহ আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে জর্ডন, ইথিওপিয়া এবং ওমানে ৪ দিনের সফর শুরু করবেন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে ওমানের নিম্ন সংসদ, শুরা কাউন্সিল (Majlis Ashura) ভারতের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি মঞ্জুর করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ২০২৩ সালের নভেম্বরে শুরু হয়েছিল।
ভারতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলির গুরুত্ব:
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে ওমান ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, উভয় পক্ষই বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। গত বুধবার শুরা কাউন্সিল খসড়া CEPA নিয়ে তাদের আলোচনা শেষ করে চুক্তিটিকে অনুমোদন দেয়।
PTI-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪-২৫ সালে ভারত-ওমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রফতানির পরিমাণ ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ৬.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের প্রধান আমদানিকৃত পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং ইউরিয়া, যা মোট আমদানির ৭০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়াও প্রোপিলিন এবং ইথিলিন পলিমার, রাসায়নিক, পেট কোক, জিপসাম, লোহা ও ইস্পাত এবং অপরিশোধিত অ্যালুমিনিয়ামও আমদানি করা হয়।