মালদা মেডিক্যাল কলেজে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র! সাত মাস ধরে যন্ত্র যাচাই হয়নি, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Malda Medical College and Hospital) প্রায় সাত মাস আগেই অধিকাংশ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত সাত-আট মাস ধরে সেই যন্ত্রগুলি যাচাই (verification) করা হয়নি এবং পর্যাপ্ত পাউডার না-থাকা সিলিন্ডারগুলিও ঝুলছে। প্রতিদিন যেখানে ভিন্ জেলা ও ভিন্ রাজ্য থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিচ্ছেন, সেখানে এমন গাফিলতি নিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পরই মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।
বিপুল রোগীর চাপ ও ঝুঁকির আশঙ্কা
মালদা মেডিক্যালে মোট কার্যকরী বেডের সংখ্যা ১১২০টি হলেও, প্রতিদিনই প্রায় দেড়শো বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। করিডোর ও বারান্দাতেও চলে রোগীর চিকিৎসা। এছাড়াও আউটডোরে প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করেন। এত বিপুল জনবহুল একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র ঝুলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোগীর আত্মীয় মহম্মদ সেতাউর রহমান বলেন, “অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রগুলির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে পড়ে থাকলে এখানে অবশ্যই গাফিলতি রয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষম রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের দুর্ঘটনার সময় পালানো সম্ভব নয়, তাই কর্তৃপক্ষের দ্রুত যাচাই করা উচিত।” আরেক আত্মীয় সুরজান আলিও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “দুর্ঘটনা কখনও বলে আসে না। মালদা মেডিক্যালের একাধিক অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের আশ্বাস
মেডিক্যাল কলেজের সুপার প্রসেনজিৎ বর এই গাফিলতি মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মেডিক্যালে এধরনের ঘটনা কাম্য নয়। যদি মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার গাফিলতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বে থাকা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করছি। তদন্ত করে গাফিলতি পাওয়া গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নবাগত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুরজিৎ কুণ্ডু জানান, প্রেসার না-থাকা যন্ত্রগুলি লাগানো থাকা উচিত নয়। সাধারণত এগুলি প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। তিনি সমস্ত অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রের অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলেছেন।