আধার কার্ডের মতোই বাধ্যতামূলক হলো এই নতুন আইডি! অবহেলা করলেই বন্ধ হবে পিএম কিষাণ ও সারের ভর্তুকি

আজকের ডিজিটাল যুগে ভারতের কৃষি ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে। যে কোনো ধরণের সরকারি ভর্তুকি, ঋণ বা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেতে কৃষকদের জন্য এখন ‘ফার্মার আইডি’ (Farmer ID) বা কৃষক পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য যেভাবে আধার কার্ড একটি অপরিহার্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র, ঠিক তেমনি দেশের প্রতিটি চাষীর জন্য এই ডিজিটাল কৃষক আইডি এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই কার্ডটি না থাকলে কৃষকেরা সার, বীজ কিংবা আধুনিক কৃষি সরঞ্জামের ওপর কোনো সরকারি ছাড় পাবেন না। এমনকি ‘পিএম কিষাণ সম্মান নিধি’র মতো বড় বড় ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড়সড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই বিশেষ কার্ডটি বানানোর জন্য কৃষকদের আর কোনো সরকারি দপ্তরে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না কিংবা কোনো দালালকে টাকা দিতে হবে না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই মোবাইল ফোন থেকে করা সম্ভব।
কী এই ‘ফার্মার আইডি’ এবং এর আসল সুবিধা কী?
কৃষক আইডি হলো মূলত চাষীদের জন্য একটি অনন্য ডিজিটাল প্রোফাইল। এই আইডির অধীনে একজন কৃষকের জমির পরিমাণ ও খতিয়ান, তাঁর বপন করা ফসলের ধরণ এবং তাঁর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গায় সুরক্ষিত থাকবে।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার যখনই কৃষকদের কল্যাণে কোনো নতুন যোজনা বা আর্থিক অনুদান ঘোষণা করবে, তখন কৃষকদের বারবার নতুন করে নথিপত্র জমা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। সরকারি সিস্টেম সরাসরি ওই নির্দিষ্ট ‘ফার্মার আইডি’র মাধ্যমে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে নেবে। এর ফলে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা বিলম্ব ছাড়াই প্রকল্পের নির্ধারিত অর্থ সরাসরি ও স্বচ্ছভাবে কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত (DBT) হয়ে যাবে।
এছাড়াও, কৃষিকাজের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে কম সুদে ঋণ কিংবা কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) পেতে চাইলে এই আইডি পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুতগতির করে তুলবে। এর ফলে ভুয়ো বা নকল সুবিধাভোগীদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছেই সরকারি অনুদানের ১০০ শতাংশ সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।
মোবাইল থেকে আবেদন করার সহজ ধাপসমূহ:
এই ডিজিটাল কার্ডটি নিজে তৈরি করার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ এবং স্বচ্ছ। নিচে দেওয়া ধাপগুলি অনুসরণ করে যে কেউ এটি বানিয়ে নিতে পারেন:
প্রথম ধাপ: প্রথমে সরকারের অফিশিয়াল কৃষি পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে হোম পেজে ‘Farmer ID Registration’ বা কৃষক আইডি নিবন্ধনের একটি বিকল্প দেখা যাবে।
দ্বিতীয় ধাপ: এই বিকল্পটিতে ক্লিক করার পর, আবেদনকারীকে তাঁর নির্দিষ্ট আধার নম্বরটি প্রবেশ করাতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: নম্বরটি দেওয়ার সাথে সাথেই আধারের সঙ্গে যুক্ত থাকা মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড আসবে। সেটি পোর্টালে নির্দিষ্ট বক্সে বসাতে হবে।
চতুর্থ ধাপ: ওটিপি যাচাইকরণ সম্পন্ন হতেই আবেদনকারীর নাম, বয়স এবং ঠিকানার মতো প্রাথমিক তথ্যগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমের ফর্মে যুক্ত হয়ে যাবে।
পঞ্চম ধাপ: এরপর কৃষককে তাঁর জমির বিবরণ (যেমন খতিয়ান নম্বর ও মৌজা) এবং টাকা পাওয়ার জন্য নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ বিবরণ পূরণ করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপ: সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পুনরায় মিলিয়ে নেওয়ার পর ‘সাবমিট’ বোতামটি চাপলেই আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
আবেদন জমা পড়ার পর প্রশাসনিক স্তরে তথ্য যাচাইকরণ শেষ হলেই একটি অনন্য ‘ফার্মার আইডি’ নম্বর তৈরি হয়ে যাবে। কৃষকেরা সহজেই সেই ডিজিটাল কার্ডটি পিডিএফ (PDF) ফর্মে নিজেদের মোবাইলে ডাউনলোড করে ভবিষ্যতের ব্যবহারের জন্য রেখে দিতে পারবেন।