মা-বাবার বয়সের ফারাক কত হলে SIR হিংয়ারিংয়ে ডাকতে পারে? জানিয়ে দিলো কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকাকে নির্ভুল করার লক্ষ্যে চলছে ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া, যার আজ ছিল এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। আগামী ১৬ তারিখ প্রকাশিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত খসড়া ভোটার তালিকা। এর ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশন ‘হিয়ারিং’ বা শুনানি পর্ব নিয়ে এক বিরাট এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে, যা রাজ্যের বহু ভোটারের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটারদের বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধানের মতো একটি ব্যতিক্রমী বিষয়কেও এবার মাথায় রাখা হচ্ছে। এই ব্যবধানের উপর ভিত্তি করেও কিছু ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে।

বাবা-মায়ের বয়সের তফাত কত হলে হিয়ারিংয়ে ডাক?

কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছর বা তার বেশি, এমন সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে।

কমিশনের এক আধিকারিক এই বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, “যাদের বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান সন্দেহজনক, তাদের সবাইকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে যাতে ভোটার তালিকা সঠিক ও সম্পূর্ণ থাকে।” এই শুনানিতে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হবে এবং নথি দেখে কমিশন সন্তুষ্ট হলে তবেই ফাইনাল ভোটার লিস্টে নাম থাকবে।

এনুমারেশন ফর্মে অসঙ্গতি থাকলে কী হবে?

বাবা-মায়ের বয়সের তফাত ছাড়াও, এনুমারেশন ফর্মের তথ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলেই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে বলে ওই আধিকারিক জানিয়েছেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই যোগ্য ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা!

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক ভোটারের ক্ষেত্রে এই SIR প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ২০৭ জন ভোটারকে ‘আনকালেক্টবল’ (অগ্রহণযোগ্য) বা ‘আনট্রেসেবল’ (অনুসন্ধানযোগ্য নয়) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে:

  • মৃত: ২৪,১৪,৭৫০ জন

  • খুঁজে পাওয়া যায়নি: ১১,৫৭,০০-এর বেশি

  • অন্য ঠিকানায় চলে গিয়েছেন: ১৯,৮৯,৯১৪ জন

  • একাধিক স্থানে নাম রয়েছে: ১৩,০৫,৬২৭ জনের

  • ফর্ম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি: ১১,৫৭,০০০-এর বেশি

এই সব ‘আনট্রেসেবল’ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

SIR প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি

  • খসড়া তালিকা প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর

  • নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন ও আপত্তি জানানোর সময়: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত

  • চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এই চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেই আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে।