‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই’ কর্মসূচিতে অগ্নিমিত্রা পলকে দেড় ঘণ্টা আটকে রাখলেন তৃণমূল কর্মীরা! আসানসোলে তুমুল বিক্ষোভ

আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল বুধবার রাতে ‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই’ জনসংযোগ কর্মসূচিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল কর্মীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত রানিগঞ্জ গ্রামীণ এলাকার টিরাট গ্রামে। রাত পর্যন্ত স্থানীয়রা অগ্নিমিত্রা পলের গাড়ি আটকে রাখেন, যার ফলে বিধায়ককে দীর্ঘসময় গাড়ির ভেতরে ঠায় বসে থাকতে হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে তাঁকে নিরাপদে গ্রাম থেকে বের করে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও বচসা
এদিন সন্ধ্যায় টিরাট গ্রামের গর্গরডাঙায় জনসংযোগের সময় অগ্নিমিত্রা পল তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সেখানে তৃণমূল কর্মীরা এসআইআর-এর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বিধায়ককে দেখেই তাঁরা স্লোগান দিতে শুরু করেন।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অগ্নিমিত্রার তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ককে প্রশ্ন করেন—”এতদিন কোথায় ছিলেন?” এর পাশাপাশি গ্রামবাসী মহিলারাও বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অগ্নিমিত্রা পল গাড়িতে গিয়ে বসলে এলাকার মহিলারা গাড়ির সামনে বসে অবরোধ করেন।
অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ
অগ্নিমিত্রা পল অভিযোগ করেন, “স্থানীয় তৃণমূল কর্মী এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে হেনস্তা করেছেন। আমাকে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। গ্রামবাসী ও মহিলাদের নিয়ে এসে আমাদের আটকানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি মনে করেন যে তার তৃণমূল ক্যাডার দিয়ে আমাদের কাজকে থমকে দেবে, আমরা কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নই।”
তৃণমূল নেতার পালটা অভিযোগ
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “ওনাকে এতদিন পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়নি। আমরা এসআইআরের কাজ করছিলাম। শুনলাম বহিরাগত কিছু গুন্ডা নিয়ে উনি এসেছেন। আমরা ওনাকে বসতে বলি। কিন্তু উনি দুর্ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় মহিলারা তাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কিন্তু খুব দুঃখজনক যে ওনার নিরাপত্তারক্ষীরা বন্দুক উঁচিয়ে মহিলাদের বলছেন গুলি মেরে দেব।”
পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীও বলেন, “এটা কত লজ্জার ব্যাপার যে স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়ককে আটকে রাখছে। সাড়ে চার বছর ওনার দেখা নেই, এখন উনি কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে নিয়ে ‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই’ করতে যাচ্ছেন। স্বভাবতই মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বেরিয়ে এসেছে।”
গভীর রাতে বিজেপির বিক্ষোভ
এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাত পর্যন্ত আসানসোলে বিজেপির নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রথমে কালীপাহাড়ি মোড়ে এবং পরে ভগৎ সিং মোড়ে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করা হয়। আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ পরে অবরোধকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।