বাসরঘরে শুরু সম্পর্ক শেষ হল রান্নাঘরে, জেনেনিন কেন বিবাহবিচ্ছেদ

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই বাস্তব! পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের ঝগড়াই জন্ম দিয়েছে বিচ্ছেদের। গুজরাট হাইকোর্ট সম্প্রতি এক যুগ ধরে চলা এক বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় এমনই রায় বহাল রেখেছে, যেখানে ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সংঘাতের জেরে।

২০০২ সালে বিয়ে হয়েছিল ওই দম্পতির। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই অশান্তি শুরু হয় পেঁয়াজ ও রসুন নিয়ে। ২০১৩ সালে স্ত্রী’র বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন স্বামী। তাঁর দাবি ছিল, স্ত্রী খাদ্যাভাসের সঙ্গে কোনও আপোস করতে নারাজ। স্বামী এটিকে ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে দাবি করেন।

পেঁয়াজ-রসুন বিতর্ক: কেন এত সংঘাত?

আইনজীবী ভুনেশ রূপেরা মামলা প্রসঙ্গে জানান, “স্বামী-স্ত্রী ২০১৩ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে বসবাস করতেন এবং সেই সময়ে তাঁদের একটি ছেলেও হয়। কিন্তু স্ত্রী ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের হওয়ায় তিনি নিজে পেঁয়াজ-রসুন খেতেন না। তিনি বাড়িতে জোর করতেন যে পরিবারের সদস্যরাও যেন এগুলো না-খায়। এই নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া লেগে থাকত।”

স্বামী অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের রসুন ও পেঁয়াজ খাওয়ার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি ছিল স্ত্রী’র। সেই জেদেই একপর্যায়ে ২০১৩ সালে ওই মহিলা স্বামী ও ছেলের কথা না-ভেবে একা ঘর থেকে বেরিয়ে যান। এরপরই স্বামী আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানির পর, ২০২৪ সালে পারিবারিক আদালত এই বিবাহবিচ্ছেদে সম্মতি দেয়।

হাইকোর্টে খোরপোশ নিয়ে মামলা

পারিবারিক আদালতের এই বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেননি স্ত্রী, তবে খোরপোশের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাট হাইকোর্টে যান তিনি। যদিও তিনি আদালতে জানান যে বিবাহবিচ্ছেদে তাঁর আপত্তি নেই, তবে তাঁর দাবি ছিল— তাঁদের পারিবারিক অশান্তির একমাত্র কারণ পেঁয়াজ-রসুন নয়। অন্যদিকে, স্বামীর দাবি ছিল, অশান্তির মূল কারণ ছিল ওই খাদ্যাভ্যাসই।

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গুজরাট হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।

খোরপোশ নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

পারিবারিক আদালত বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি খোরপোশের নির্দেশও দেয়। আদালত নির্দেশ দেয় যে, স্বামীকে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে এবং ২০২০ সালের জুলাই থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে হবে।

যদিও স্ত্রী আদালতে অভিযোগ করেন, গত ১৮ মাস তাঁকে খোরপোশের টাকা দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট তৎক্ষণাৎ খোরপোশের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে স্ত্রী খোরপোশের বর্ধিত পরিমাণের যে দাবি করেছিলেন, তা খারিজ করে আদালত।