“এসআইআর ওদের চালাকি, সব প্ল্যান করে করেছে!” রাজবংশী ভোটে নজর রেখে কোচবিহারের মঞ্চ থেকে গর্জন মমতার

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবংশী ভোটে নজর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের আবহে আজ কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে বড়সড় জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে উঠেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থেকে শুরু করে ‘বন্দেমাতরম’ বিতর্ক—নানা ইস্যুতে কথা বললেও তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল এসআইআর। মমতার সাফ কথা, সামনে নির্বাচন থাকায় “সবটাই প্ল্যান করে করেছে কেন্দ্র।”

এসআইআর ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা:
এসআইআর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে।”

মমতা এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে নাম তোলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “এসআইআরে সবাই নাম তুলবেন। কারণ এটা ওদের চালাকি। সামনে নির্বাচন রয়েছে। তাই প্ল্যান করে করেছে।” একইসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন:

“যদি আমরা (বিরোধিতা) না করি, তাহলে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন করে ভোট করবে।”

কেন এই পুরো প্রক্রিয়াকে তিনি ‘প্ল্যান’ বলছেন, এদিন তার ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ফাইনাল লিস্ট তৈরি করেই পরের দিন নির্বাচন ঘোষণা করে দেবে যাতে কেউ আদালতে যেতে না পারে। কোর্টের ব্যাপার আমি কোর্টের উপর ছেড়ে দিচ্ছি। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াই আমরা রাজনৈতিকভাবই লড়ব।”

“বাংলাটা ডিটেনশন ক্যাম্পে পরিণত হবে”:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দেন যে বিজেপির হাতে রাজ্য গেলে বাংলার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। তিনি বলেন:

“বিজেপির হাতে রাজ্য গেলে আপনার অস্তিত্ব থাকবে না, আপনার সম্মান থাকবে না, আপনার ঠিকানা থাকবে না। বাংলাটা ডিটেনশন ক্যাম্পে পরিণত হবে।”

তিনি ফের একবার জোর দিয়ে বলেন, বাংলা কোনওভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকার উত্তর প্রদেশ, অসমে ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করেছে। কিন্তু আমরা এখানে আমরা এনআরসি করতে দেব না। কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”

বিজেপির পাল্টা তোপ:
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার খোঁচা দিয়ে বলেছেন, “এ কী অদ্ভুত কথা। যুদ্ধ শুরুর আগেই উনি হেরে গেলেন। এখন থেকে হারের কারণ হিসাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।”