শীত পড়তেই বেনজির দুর্ভোগ! গঙ্গা ভাঙন কবলিত মুর্শিদাবাদের বহু পরিবার খোলা আকাশের নীচে, স্কুল ভবনে গাদাগাদি করে রাত কাটাচ্ছেন

মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙন (Ganga Erosion) একটি জ্বলন্ত সমস্যা। ভাঙনের জেরে এখন ভিটেমাটি ছাড়া বহু পরিবার। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে যখন ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করেছে, ঠিক তখনই শীতের হাওয়ার মাঝে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন সামশেরগঞ্জের গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

কয়েক বছর ধরেই এই অঞ্চলে গঙ্গার ভাঙন অব্যাহত। সাম্প্রতিক ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার স্থানীয় চাঁচন্ড জুনিয়র বেসিক স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় খুঁজছেন।

ঠাণ্ডায় স্কুল ভবনে রাত কাটানো কঠিন

ভাঙন কবলিত মানুষেরা অভিযোগ করেছেন, মাথার উপর ছাদ মিললেও শীতের রাতে স্কুল ভবনে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ছোট-বড় মিলিয়ে সাতটিরও বেশি পরিবার আপাতত স্কুল ভবনের কক্ষে গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছেন। ঠাণ্ডা হাওয়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন অভিভাবকেরা।

চাঁচন্ড পঞ্চায়েতের সদস্যরা জানান, “ভাঙন শুরুর সময় থেকেই আমরা অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। এলাকার মানুষ যখন আতঙ্কে ঘরছাড়া হচ্ছিলেন, তখন তাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

আবাসন প্রকল্পের টাকা ডিসেম্বরে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ সাহায্য করেছেন। পঞ্চায়েত নিশ্চিত করেছে যে, খুব শিগগিরই, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।

বিশেষত, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যেসব পরিবার গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা আগামী ডিসেম্বর মাসেই আবাসন প্রকল্পের টাকা পাবেন। আরও ভাঙনে ঘর চলে যাওয়া বাসিন্দাদেরও আর্থিক সাহায্য করে দ্রুত ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।

যদিও ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের এখন প্রধান চিন্তা, এই ঠাণ্ডার সময় ও গঙ্গার হাওয়ায় কী করে কাটাবেন অস্থায়ী ঠিকানায়। শীতবস্ত্র এবং আবাসন প্রকল্পের টাকা হাতে না আসা পর্যন্ত তাঁদের দুর্ভোগ চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।