৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ শিলান্যাস, হুমায়ূন কবীরের ঘোষণা, শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণ

আগামী ৬ই ডিসেম্বর, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নতুন করে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর (শিলান্যাস) স্থাপন করা হবে। এই ঘোষণা করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ভরতপুর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, ৬ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার পর এই শিলান্যাসের অনুষ্ঠান হবে এবং এতে বাংলার বিশিষ্ট মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিধায়ক হুমায়ূন কবীর এও স্পষ্ট করেছেন যে, ওই দিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের যে সংহতি দিবসের সভা রয়েছে, সেখানে তিনি যোগ দেবেন না। তাঁর এই ঘোষণা তৃণমূলের মূল ধারার কর্মসূচির সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করেছে।

শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া:

হুমায়ূন কবীরের এই স্পর্শকাতর মন্তব্য ও ঘোষণা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তৃণমূল বিধায়কের এই ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক উস্কানি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন।

যদিও শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য অনুসন্ধান থেকে পাওয়া যায়নি, তবে বিজেপি মুখপাত্র ইয়াসের জিলানি-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে,

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, “নির্বাচনী সুবিধার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের ঘোষণা বাংলার শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা।”

বেলডাঙার স্থানীয় কৃষকের একটি জমিকে ঘিরে এই শিলান্যাসের প্রস্তুতি চলছিল বলে খবর ছড়ায়। যদিও জমির মালিক এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং কাউকে জমি ব্যবহার করতে দেবেন না বলে ঘোষণা করে জমি ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে, তৃণমূল বিধায়কের এই একক সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে চরম বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।