ঘুম ভাঙল ১০ হাজার বছর পর! হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির ছাই ভারতে, DGCA-এর জরুরি সতর্কতা, কী জানাল ইন্ডিগো?

প্রায় ১০ হাজার বছর ধরে সুপ্ত থাকা একটি আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই এবং সালফার ডাই-অক্সাইডের ঘন মেঘ এখন উত্তর-পশ্চিম ভারতের আকাশ দখল করেছে। ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরিতে সোমবার রাত থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ার পর, এই ছাইয়ের কারণে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো-সহ একাধিক বিমান সংস্থা বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল ও রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) বিমান সংস্থা এবং বিমানবন্দরগুলিতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ইন্ডিয়া মেট স্কাই ওয়েদার জানিয়েছে, আগ্নেয় ছাইয়ের এই মেঘ ক্রমশ উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং প্রতি ঘন্টায় ১২০-১৩০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে। সোমবার সন্ধ্যায় ছাইয়ের মেঘ পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করে এবং রাত ১০টা নাগাদ এটি রাজস্থান, উত্তর-পশ্চিম মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের দিকে এগোতে থাকে। মনে করা হচ্ছে, পরবর্তীতে তা হিমালয়-সহ অন্যান্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলবে।
ডিজিসিএ এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থাগুলিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইঞ্জিনের কার্যকারিতার অসঙ্গতি বা কেবিনে ধোঁয়া/গন্ধ-সহ ছাইয়ের যে কোনও সন্দেহজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সোমবার কন্নুর থেকে আবুধাবিগামী ইন্ডিগোর (6E 1433) একটি বিমান ছাইয়ের কারণে ঘুরিয়ে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।
ইন্ডিয়া মেট স্কাই তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছে যে এই ছাইয়ের মেঘ প্রধানত সালফার ডাই-অক্সাইড দিয়ে গঠিত, যা বর্তমানে ওমান-আরব সাগর অঞ্চল থেকে উত্তর ও মধ্য ভারতের সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে দিল্লি এনসিআর-এর বায়ুর গুণমান এমনিতেই ‘গুরুতর’ হওয়ার কাছাকাছি, তাই আগ্নেয়গিরির এই পুরু ছাইয়ের মেঘ রাজধানীতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।