এক শহরে রহস্যমৃত্যু, অন্য শহরে নৃশংস খুন, বেঙ্গালুরু থেকে নয়ডা, দু’টি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় তোলপাড় দেশ

দেশের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া দুটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে যেখানে এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, সেখানে নয়ডায় মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বেঙ্গালুরুর রহস্যজনক মৃত্যু: প্রেমিকের খোঁজে পুলিশ
বেঙ্গালুরুতে একুশ বছরের কলেজছাত্রী দেবীশ্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার মনসা নামে এক মহিলার ভাড়া করা একটি ঘর থেকে বিবিএম ফাইনাল ইয়ারের এই ছাত্রীর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি শ্বাসরোধ করে খুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক প্রেম বর্ধন বর্তমানে পলাতক। পুলিশ তাকেই খুঁজছে। জানা গেছে, প্রেম এবং দেবীশ্রী সকাল ৯:৩০ থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত ওই ঘরে ছিলেন। এরপর প্রেম বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। ২৩ বছর বয়সী জয়ন্ত টি-এর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদনায়কানাহাল্লি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংবিধানের ১০৩(১) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে এসেছে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নয়ডার নৃশংস খুন: পশ্চিমবঙ্গের মহিলাকে খুন করল প্রেমিক
অন্যদিকে, গত ৬ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর-৮২ এর কাছে একটি নর্দমা থেকে এক মুণ্ডুহীন, নগ্ন ও হাত কাটা মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এক সপ্তাহ ধরে তদন্তের পর নয়ডা পুলিশ সম্প্রতি সেই নৃশংস খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। অভিযোগ, তাঁর প্রেমিক মনু সিং এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মনু পেশায় বাস চালক। আড়াই বছরের প্রেম চলাকালীন মহিলা তাঁর বিবাহিত স্বামীর সঙ্গে বচসা করে দুই সন্তানকে নিয়ে নয়ডায় চলে আসেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মহিলা মনুকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং তার কাছে প্রায় দুই লক্ষ টাকা ধারও ছিল। ধার শোধ করতে না পারা এবং বিয়ের চাপের জেরেই মনু তাঁকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে। ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বাসের ভেতরেই সে প্রেমিকাকে খুন করে। এরপর মুণ্ডু ও হাত কেটে দেহটি নর্দমায় ফেলে দিয়ে গাজিয়াবাদে পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত মনু সিং নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।