বিষ প্রয়োগে বিলুপ্তপ্রায় পাখি হত্যা! বটগাছের নীচে সারি সারি মৃতদেহ, পশ্চিম মেদিনীপুরে চাঞ্চল্য, আতঙ্কে পরিবেশপ্রেমীরা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার হেমচন্দ্র পঞ্চায়েতের আম্বিডাঙর এলাকায় গ্রামের একটি প্রকাণ্ড বটগাছের নীচে সারি সারি মৃত পাখি উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে গাছের নীচে একাধিক মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পাখি রয়েছে বলে অনুমান। এত সংখ্যক পাখির মৃত্যু ঘিরে রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
স্থানীয়দের পাশাপাশি পরিবেশপ্রেমীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান। পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা স্থানীয় একাংশের বিরুদ্ধে বিষ দিয়ে পাখি মেরে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন।
খবর পেয়ে বেলদা বন দফতরের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মৃত পাখিগুলি সংগ্রহ করেন। বন দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত পাখিগুলির মধ্যে কয়েকটি হরিয়াল এবং বসন্তবৌরি পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, এলাকার কোনও মানুষ খাদ্যের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে পাখিগুলি মেরে ফেলতে পারেন। এই বটগাছে ফল খেতে আসত পাখিগুলি।
বেলদা বন দফতরের আধিকারিক তৌহিদ আনসারি বলেন, “বিষ বা অন্য কিছু দিয়ে পাখিগুলিকে মারা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বন দফতর জানিয়েছে, সোমবার পাখিগুলির ময়নাতদন্ত করা হবে। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে বন দফতর।
এলাকার পরিবেশপ্রেমী যুবক সন্দীপ দাস জানিয়েছেন, রবিবার ও সোমবার একাধিক মরা পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এত পাখি আসে এলাকায়, এমন মৃত্যু কাঙ্ক্ষিত নয়।” বন বিভাগের তরফে এলাকায় মাইকে প্রচার করে এবং সচেতনতার ফ্লেক্স টানিয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। আগামী দিনে এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচিও পালন করা হবে। এলাকাবাসীদের দাবি, মৃত পাখির সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে।