বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রর জীবনাবসান, অভিনয় ছাপিয়ে সুদীর্ঘ কেরিয়ারে দেওল পরিবারের জন্য রেখে গেলেন হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য

সোমবার প্রয়াত হলেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর গুরুত্ব ছিল অবিস্মরণীয়। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় দিয়ে তিনি শুধু দর্শকদের মনেই নয়, নিজের পরিবারের জন্যও রেখে গেছেন এক সুবিশাল ঐতিহ্য ও সম্পদ।

পাঞ্জাবের লুধিয়ানার নসরালি গ্রামে জন্ম নেওয়া ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন প্রকাশ কৌরকে। প্রথম সংসারে তাঁর চার সন্তান— দুই ছেলে সানি দেওল ও ববি দেওল, এবং দুই মেয়ে বিজয়তা ও অজীতা।

দেওল পরিবারের দুই প্রজন্ম:

ধর্মেন্দ্রর প্রথম উত্তরাধিকারী সানি দেওল বর্তমানে একজন সফল অভিনেতা, পরিচালক এবং সাংসদ। সানি ও তাঁর স্ত্রী পূজা দেওলের দুই ছেলে— করণ ও রণবীর (রাজবীর), যিনি সম্প্রতি ‘দোনো’ ছবি দিয়ে বলিউডে পা রেখেছেন। ছোট ছেলে ববি দেওলও অভিনেতা ও প্রযোজক। তাঁর স্ত্রী তানিয়া আহুজা পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। তাঁদের দুই ছেলে— আর্যমান ও ধর্ম (যার নামকরণ হয়েছে ধর্মেন্দ্রর নামে)। প্রথম পক্ষের দুই মেয়ে বিজয়তা ও অজীতা প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকেন।

১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র তাঁর সহ-অভিনেত্রী হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন। সে সময় প্রথম বিয়ে বজায় থাকায় এই সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক ছিল। এই সংসারে তাঁর দুই মেয়ে— ঈশা দেওল এবং অহনা দেওল। ঈশা একজন পরিচিত অভিনেত্রী এবং অহনা শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী ও উদ্যোক্তা। ঈশার দুই কন্যা (রাধ্যা ও মিরায়া) এবং অহনার এক পুত্র ও যমজ দুই কন্যা রয়েছে। যদিও হেমা মালিনী এবং দুই মেয়ে মুম্বইয়ে থাকেন এবং ধর্মেন্দ্র জীবনের বেশিরভাগ সময় প্রথম পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন, তবুও দুই শাখার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

সম্পদের পরিমাণ:

দীর্ঘ কর্মজীবনে চলচ্চিত্র, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন বিনিয়োগে ধর্মেন্দ্র তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৩৩৫–৪৫০ কোটি টাকা রেখে গেছেন। গোটা দেওল পরিবারের সম্মিলিত সম্পদ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে মনে করা হয়, যা এটিকে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সিনেমা পরিবারগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে।

ধর্মেন্দ্র কেবল একজন সফল নায়ক নন, তিনি রেখে গেলেন ঐতিহ্য, জনপ্রিয়তা, স্মৃতি এবং এক সুবিশাল চলচ্চিত্র-পরিবার। তাঁর প্রয়াণে বলিউড দীর্ঘদিন এক শূন্যতা অনুভব করবে।