দু’পায়ে আছে জাদু, জাগলিং-এ দক্ষ! মামা পিন্টু মাহাতোকে দেখে ফুটবল নেশা, কে এই পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষুদে তারকা সৃজিত?

পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের চাঁদড়ার ঢড়রাশোল এলাকায় বেড়ে ওঠা ১০ বছর বয়সি সৃজিত মাহাতো এখন ফুটবলমহলে এক বিস্ময় বালক। রোগা পাতলা চেহারা হলেও তার দু’পায়ে যেন জাদু আছে। সৃজিতের দুর্দান্ত গতি, ফুটবল স্কিল এবং জাগলিং-এর দক্ষতা দেখে চমকে যেতে হয়। সে একটানা ৯০ মিনিট গোটা মাঠে দৌড়তে পারে এবং তার টেকনিক সহজেই পরাজিত করে বিপক্ষ দলের ফুটবলারদের।
সৃজিত বর্তমানে গ্রামেরই এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।
অনুপ্রেরণা ও অনুশীলন
অনুপ্রেরণা: সৃজিতের মামা পিন্টু মাহাতো একজন নামকরা ফুটবল খেলোয়াড়। মামাকে দেখেই ছোটবেলা থেকে তার ফুটবলের প্রতি তীব্র নেশা জন্মায়। ঝাড়গ্রামের বাড়ি ছেড়ে সে মামা বাড়িতে থেকেই ফুটবলে অনুশীলন করে।
অনুশীলন পদ্ধতি: সকাল হোক বা সন্ধ্যা, সৃজিত বুট পরে ফুটবল নিয়ে মাঠে নামে। সে কখনও একা একা আবার কখনও বড়দের সঙ্গে অনুশীলন করতে পছন্দ করে। সে টানা অনেকক্ষণ ধরে দু’পায়ে বল নাচাতে পারে।
কোচিং: সম্প্রতি সে জিন্দালের ফুটবল কোচিং ক্যাম্পে অনুশীলন করেছে।
লক্ষ্য এবং সাফল্য
সৃজিতের জীবনের লক্ষ্য ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি সুনীল ছেত্রীর মতো ফুটবলার হয়ে দেশ ও দশের কাছে নাম করা। সম্পূর্ণ নিজের জেদ এবং ইচ্ছেতেই সে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মাত্র ১০ বছর বয়সেই তার ফুটবলের টেকনিক এবং গোটা মাঠ দাপিয়ে বেড়ানোর জন্য তার ঝুলিতে জমা হয়েছে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ট্রফি। ইতিমধ্যেই সৃজিত রাজ্যের একাধিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সফল হয়েছে। জঙ্গলমহলের এই খুদে তারকার প্রতিভা, দক্ষতা এবং কঠোর পরিশ্রম আগামীতে বাংলার ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।