‘শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লড়াই…’, তেজসকে বাঁচাতে যেভাবে জীবন দিলেন পাইলট, দেখুন ভিডিও

দুবাই এয়ার শো-এর শেষ দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হল ভারতের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজস’। শুক্রবার (নভেম্বর ২১, ২০২৫) উড়ান প্রদর্শনের সময় তেজস ভেঙে পড়ে প্রাণ হারান উইং কমান্ডার নমাংশ সিয়াল। এই ঘটনায় তীব্র শোক প্রকাশ করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ, বিমানটির শেষ মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের কাহিনি তুলে ধরেছে।
⚠️ নেগেটিভ জি-ফোর্স: শেষ মুহূর্তের মারাত্মক ভুলটি কোথায়?
WL Tan’s Aviation Videos নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তেজস কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আগুনের লেলিহান শিখায় পরিণত হল। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, দুর্ঘটনার কারণ হল একটি কঠিন কৌশল— ‘ব্যারেল রোল’ বা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি উচ্চতায় করা নেগেটিভ জি-ম্যানুভার।
এয়ার শোতে বিমানের ম্যানুভার করার ক্ষমতা দেখাতে পাইলট উইং কমান্ডার সিয়াল কম উচ্চতায় ব্যারেল রোল করছিলেন।
বিপত্তি: ব্যারেল রোলের পর বিমানটি ওপর দিকে উঠে ডিগবাজি খেয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। এটি ছিল ‘নেগেটিভ জি’-তে দ্রুত অবতরণ।
নেগেটিভ জি-তে নামার দুটি পদ্ধতি: সাধারণ ফ্রি-ফল বা মাটির দিকে মুখ করে থ্রাস্টার দিয়ে অ্যাক্সেলারেট করা। দ্বিতীয় পদ্ধতিতেই বিমানটি প্রবল বেগে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির চেয়েও দ্রুত নিচে নামতে থাকে।
নিয়ম: এই সময় সাধারণত পাইলট কিছুটা নেমেই বিমানের মাথা সোজা করে নেন এবং নিচের দিকে থ্রাস্টার মেরে ফের আকাশে উঠতে শুরু করেন।
ভুল: এক্ষেত্রে সেখানেই সমস্যা হয়। হঠাৎ করেই বিমানটি ভারসাম্য হারিয়ে নিচের দিকেই ঢলে পড়তে শুরু করে এবং পাইলট তা আর টেনে উপরে তুলতে পারেননি।
💔 শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই: ব্যর্থ হল ‘ইজেক্ট বাটন’ চাপার চেষ্টাও
প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, উইং কমান্ডার নমাংশ সিয়াল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটিকে বাঁচানোর এবং নিজেদের প্রাণ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন:
১. মুখ ঘোরানোর চেষ্টা: তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন বিমানের মুখ ঘুরিয়ে উপর দিকে করতে। ২. ইজেক্টের ব্যর্থতা: বিমানটিকে সোজা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর উইং কমান্ডার সিয়াল সম্ভবত ইজেক্ট বাটন (Eject Button) চেপে বিমান থেকে বেরিয়ে আসারও চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু নেগেটিভ জি-তে প্রবল বেগে বিমান নিচে নামতে থাকায় এবং মাটির অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসায়, ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। বিমানটি দ্রুত মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তে আগুনের গোলায় পরিণত হয়।
ভারতীয় বায়ুসেনা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি (Court of Inquiry) গঠিত হচ্ছে।