“শেয়ারবাজারে রক্তক্ষরণ!”-আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আঁচ, বড় ধস ভারতের বাজারে

বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বড়সড় ধস নামল। আমেরিকা ও ইরানের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ সরাসরি এসে পড়েছে ভারতীয় শেয়ারবাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় সেনসেক্স এবং নিফটি—উভয় সূচকেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি: বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স প্রায় ৩৬০ পয়েন্টের বেশি পড়ে ৭৩,৬০০-এর নিচে নেমে যায়। একইসাথে নিফটি ৫০ সূচকও ১১৭ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে ২৩,১০০-এর আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার জেরে বিদেশি লগ্নিকারীদের পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারকে আরও চাপে ফেলেছে।

কেন এই পতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে প্রধান কারণগুলি হলো:

  • আমেরিকা-ইরান সংঘাত: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চিন্তার বিষয়।

  • মূল্যস্ফীতির ভয়: আমেরিকায় মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধিতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে কড়াকড়ি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

  • আইটি শেয়ারে ধস: সারা বিশ্বে আইটি খাতের শেয়ারে বড় সংশোধন চলছে। যার প্রভাব পড়েছে ভারতের টিসিএস (TCS), ইনফোসিস (Infosys), এইচসিএল (HCL) এবং টেক মাহিন্দ্রার মতো दिग्गज সংস্থাগুলোর শেয়ারে।

কারা লাভের মুখ দেখল? বাজারের এই নেতিবাচক পরিবেশের মধ্যেও কিছু স্টক নিজেদের ধরে রেখেছে। মূলত পাওয়ার গ্রিড, ভারতী এয়ারটেল, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং ইন্টারগ্লোব এভিয়েশনের মতো স্টকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়া সান ফার্মা এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ারও গ্রিন জোনে লেনদেন করছে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্ট ফিনান্সিয়ালের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভিকে বিজয়কুমারের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।

সতর্কবার্তা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে। এটি কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে নিজস্ব গবেষণা করুন এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।