‘অভিষেকের ঔদ্ধত্যেই দল শেষ!’ বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অস্বস্তিতে মমতা?

বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ বাড়াল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডি (CID)-র দপ্তরে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একাধিকবার হাজিরা এড়ানোর পর এবার আর কোনো বাড়তি সময় দিতে রাজি নয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে স্বস্তির খবর বলতে, আগামী ১৪ দিন অভিষেককে কোনো বড় পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের হাত থেকে রক্ষা করবে আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও সুরক্ষাকবচ: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের চিঠিতে সই জাল করার অভিযোগটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই মামলায় বারংবার সিআইডি-র তলব এড়িয়েছেন অভিষেক। শেষবার দিল্লিতে থাকার অজুহাতে সময় চেয়ে নিলেও, এবার আর আদালত কোনো নমনীয়তা দেখায়নি। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, হাজিরা দিতেই হবে, তবে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূল সাংসদকে। আপাতত ১৪ দিনের জন্য তিনি রক্ষাকবচ পেয়েছেন।
মামলা ছাড়লেন কল্যাণ, তোপ দাগলেন ঔদ্ধত্যের: এই পুরো ঘটনার মধ্যেই সবচেয়ে বড় চমক ছিল আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁকে জানানো হয় যে, এই মামলা এখন অয়ন ভট্টাচার্য লড়বেন।
এর পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “কী উদ্ধত রে বাবা! মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন— নয়তো আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান। ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তার পরেও উদ্ধত ভাব কমেনি।” ৪৫ বছরের কর্মজীবনে এমন অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে এক বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিল্লিতেই অভিষেক, রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার সন্ধ্যাতেই দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই থেকে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বৃহস্পতিবার সন্ধায় ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি এখন রাজ্য রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয়।
তৃণমূলের অন্দরে ‘অভিষেক বনাম কল্যাণ’ সংঘাত কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্য ‘কফিনে শেষ পেরেক’ হয়ে দাঁড়াবে? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ভবানী ভবনের দিকে।