‘বাবা-মা’র উপর অত্যাচার…’প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহর কাছে তদন্তের দাবি তেজপ্রতাপের

বিহারের যাদব পরিবারে রাজনৈতিক ব্যর্থতার পর এবার গৃহযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) থেকে বহিষ্কৃত নেতা তেজপ্রতাপ যাদব এবার সরাসরি তাঁর বাবা-মা, লালুপ্রসাদ যাদব ও রাবড়ি দেবীর উপর ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও বিহারের নীতিশ সরকারের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
🔥 ‘জয়চন্দ’রা দায়ী, চরম চাপের মুখে লালু-রাবড়ী!
তেজপ্রতাপ যাদবের অভিযোগের তীর সরাসরি তাঁর ভাই তেজস্বী যাদব শিবিরের দিকে। সমাজ মাধ্যমে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর পোস্টে লেখেন, ‘লালুপ্রসাদ ও আমার মাকে কিছু ‘জয়চন্দ’ (বিশ্বাসঘাতকের প্রতীকী) মানসিক ও শারীরিক চাপে ফেলার চেষ্টা করছে।’ তিনি সতর্ক করে দেন, এই অভিযোগের সামান্যতম সত্যতা প্রমাণিত হলে তা কেবল পরিবারের উপর নয়, RJD-র উপরেও আঘাত বলে গণ্য হবে।
তেজপ্রতাপের দাবি, অবিলম্বে সঞ্জয় যাদব, রমিজ নেমাত খান এবং প্রীতম যাদবের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হোক। এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ব্যক্তিগতভাবে আবেদনও জানিয়েছেন। এর আগে তিনি নাম না করে তেজস্বীকে আক্রমণ করেছিলেন বোন রোহিণী যাদবের পাশে দাঁড়িয়ে।
👠 জুতো তোলার অভিযোগের পরই গৃহযুদ্ধ প্রকাশ্যে
সম্প্রতি নির্বাচনের ভরাডুবির পরেই যাদব পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসে। তেজস্বীর নেতৃত্বাধীন RJD মোহিনী আসনেও খারাপ ফল করেছিল। এরপর লালু-কন্যা রোহিণী যাদব অভিযোগ করেন, তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে, এমনকি মারার জন্য জুতো তোলাও হয়েছিল। যদিও তিনি কারও নাম করেননি, কিন্তু তাঁর নিশানায় যে তেজস্বীই ছিলেন, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপরই তেজপ্রতাপ সরাসরি তাঁর বোনের পাশে দাঁড়ান।
💔 ‘কিডনি দান’ নিয়ে খোঁচা: তেজস্বীর উপর রূঢ় রোহিণী
এদিকে মঙ্গলবার ফের তেজস্বী যাদবকে আক্রমণ করেন সিঙ্গাপুর থেকে লালুপ্রসাদকে কিডনি দান করা রোহিণী। তিনি তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘যাঁরা লালুর জন্য কিছু করতে চান, তাঁদের মিথ্যা সহানুভূতি দেখানো বন্ধ করা উচিত। তার থেকে বরং কিডনির অভাব আছে যাদের তাদের পাশে দাঁড়ানো দরকার।’ এরপর তিনি আরও রূঢ় হয়ে লেখেন, ‘যারা বিবাহিত কন্যাকে তার বাবাকে কিডনি দান করার জন্য দোষারোপ করেন, তাঁদের সাহস থাকা উচিত।’ এই মন্তব্য তেজস্বীকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
যাদব পরিবারের এই প্রকাশ্যে আসা গৃহযুদ্ধ এখন বিহারের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।