আর দোকানে গেলেই কাশির সিরাপ নয়! কেন্দ্র আনতে চলেছে বড় পরিবর্তন, এবার লাগবে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দূষিত কাশির সিরাপ সেবনের ফলে একাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর কেন্দ্র সরকার এবার একটি বড় নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। ড্রাগস কনসালটেটিভ কমিটি (DCC) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছে যে, দোকানে আর অবাধে কাশির সিরাপ বিক্রি করা যাবে না; এর জন্য শীঘ্রই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হতে পারে।
শিডিউল কে থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব: বর্তমানে কাশির সিরাপগুলি ‘শিডিউল কে’-এর অধীনে পড়ে। এই তালিকা দৈনিক কম ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা পণ্যগুলির জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা ফার্মাসিউটিক্যাল লাইসেন্স ছাড়াই খুচরো প্যাকেটে বিক্রি করা যায়। এই তালিকায় লিনিমেন্ট, ব্যান্ডেজ, অ্যাসপিরিন, প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, গ্রাইপ ওয়াটার এবং কাশির সিরাপও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এজেন্ডা নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, “দূষিত কাশির সিরাপের কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি” বিবেচনা করে কাশির চিকিৎসার জন্য তৈরি সিরাপগুলি এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
কেন এই পরিবর্তন? মধ্যপ্রদেশে বেশ কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সতর্কতা জারির পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। এই মৃতুগুলি দূষিত কাশির সিরাপে ডাইথিলিন গ্লাইকোলের (Diethylene Glycol) উচ্চ মাত্রার উপস্থিতির কারণে ঘটেছিল, যার ফলে শিশুদের বিষক্রিয়া এবং কিডনিতে আঘাতের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এজেন্ডা নথিতে বলা হয়েছে, “দূষিত কাশির সিরাপের কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কাশির জন্য সিরাপ বিক্রির জন্য প্রদত্ত ছাড় বাতিল করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।” যদিও নথিতে শুধুমাত্র কাশির সিরাপ নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, লজেন্স বা বড়ির মতো অন্যান্য পণ্য নিয়ে নয়, তবে অনেক সংস্থার লাইসেন্স ছাড়াই এসব তৈরির বিষয়টি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ডি সি সি-কে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে, প্যারাসিটামল বা ব্যথানাশক বামের মতো সহজলভ্য হবে না কাশির সিরাপ।