লালকেল্লা বিস্ফোরণ: ‘হোয়াইট কলার মডিউল’-এর মাস্টারমাইন্ড কাশ্মীরের সেই মৌলবি, কীভাবে ফাঁসলেন ডাক্তাররা?

লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণের (Car Blast) নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি ‘হোয়াইট কলার মডিউল’ (White Collar Module) নামে চিহ্নিত করেছে। এই চক্রের সমস্ত সদস্যই একসময় পেশায় চিকিৎসক (Doctors) ছিলেন, যদিও চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের মেডিক্যাল লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই শিক্ষিত পেশাদারদের সন্ত্রাসের পথে নিয়ে আসার মূল হোতা হলেন কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা এক মৌলবি – ইরফান আহমেদ (Cleric Irfan Ahmed)।
গত সপ্তাহে প্রথম ইরফান আহমেদের নাম প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, তিনি পাকিস্তান-সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) কয়েকজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ হাসপাতালে কর্মরত (প্রাক্তন) চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের সঙ্গে আহমেদের প্রথম সাক্ষাতের পরই ওই হাসপাতালটি এই সন্ত্রাসী চক্রের মূল ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
বিস্ফোরক ও আত্মঘাতী হামলার ছক
শাকিলের ফরিদাবাদের ভাড়া নেওয়া দু’টি ঘর থেকেই প্রায় ২ হাজার ৯৫০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল, যার মধ্যে গাড়ি-বোমায় ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-ফুয়েল অয়েল মিশ্রণ ছিল। এই বিস্ফোরক উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পরই উমর-উন-নবি, যিনি উমর মহম্মদ নামেও পরিচিত, দিল্লির রাস্তায় হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) চালিয়ে লালকেল্লার সামনে তা উড়িয়ে দেন।
গোয়েন্দাদের দাবি, ২০২৩ সালে শ্রীনগরের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে এক রোগীকে নিয়ে যাওয়ার সময় আহমেদের সঙ্গে শাকিল ও নবির আলাপ হয়। দু’বছর ধরে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এই সময়ের মধ্যে আহমেদ দু’জনকেই এমনভাবে প্রভাবিত করেন যে, নবি আত্মঘাতী বিস্ফোরণকে “ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা ধারণা” বলে শান্ত গলায় মন্তব্য করেন।
জইশ-ই-মহম্মদের সরাসরি যোগ
সূত্রের খবর, শাকিল ও নবি পরে নিজেদের আরও কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে আহমেদের যোগাযোগ করিয়ে দেন। আহমেদ টেলিগ্রামের (Telegram) মাধ্যমে তাঁদের কাছে চরমপন্থী ভাবাদর্শ ছড়াতেন এবং দক্ষিণ কাশ্মীরে জইশ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থাও করেন।
জইশের ওই সন্ত্রাসীদের থেকেই ‘জঙ্গি ডাক্তার’-দের হাতে আসে দুটি অ্যাসল্ট রাইফেল। এক সদস্য শাহিনা সইদের মারুতি সুইফট ডিজায়ার থেকে একটি রাইফেল উদ্ধার হয়। শাহিনাকে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের মহিলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় রাইফেলটি উদ্ধার হয় শ্রীনগরের জিএমসি-র লকার থেকে, যা ব্যবহার করতেন চক্রের আর-এক সদস্য আদিল আহমদ রাথার।
রাথারের গতিবিধিই সন্ত্রাসী চক্রটিকে ধরার প্রাথমিক সূত্র এনে দেয়। তাকে নওগামে জইশপন্থী পোস্টার লাগাতে দেখা গিয়েছিল সিসিটিভিতে। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে বিস্ফোরকের হদিস, শাকিলের ভূমিকা এবং শাহিনার পরিচয়। যদিও এর আগেই লালকেল্লার বিস্ফোরণ ঘটে যায়। এই ঘটনা আরও এক ভয়াবহ বাস্তব তুলে ধরেছে: চরমপন্থী সংগঠনগুলি এখন উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের টার্গেট করছে।