অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই কি মিথ্যে প্রচার? বিহারের হারের পর মমতা-রাহুলের SIR বিরোধিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে NDA-এর কাছে মহাজোটের শোচনীয় পরাজয়ের পর কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চরম সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ব্যর্থতার জন্য সরাসরি রাহুল গান্ধীর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দল ছেড়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা শাকিল আহমেদ (Shakeel Ahmad)।
শাকিল আহমেদ খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, বিহারে কংগ্রেসের নির্বাচনী পরিকল্পনা দুর্বল ছিল। তিনি সরাসরি রাহুল গান্ধীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চোরি যাত্রা’ নিয়ে প্রশ্ন:
শাকিল আহমেদ জানান, বিহারে নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর “ভোট চোরি যাত্রা”-তে মূলত ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে প্রকৃত ভোটারদের পরিবর্তে শুধুমাত্র দলীয় কর্মীরাই উপস্থিত ছিলেন। এটি রাহুলের কৌশলগত ত্রুটি বলেই তিনি মনে করেন।
SIR বিরোধিতা নিয়ে শাকিল আহমেদের তোপ:
বর্তমানে দেশজুড়ে চলা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন তথা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিরোধিতাকেও তিনি সরাসরি খারিজ করেছেন। রাহুলকে উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— “যদি SIR-এর মাধ্যমে বিহারে সত্যিই ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে কেন অন্তত ৬৫ জনও প্রতিবাদ করেননি? এমনকি, কংগ্রেস, আরজেডি বা বাম দলগুলির একটিও কর্মী কেন আপত্তি জানালেন না?”
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, শাকিল আহমেদের এই প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাহুল গান্ধী কি তবে অনুপ্রবেশকারীদের, বিশেষত রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি মুসলমানদের সুরক্ষার জন্যই ক্রমাগত মিথ্যে প্রচার চালাচ্ছিলেন? এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একই দাবিরও অবতারণা করছেন অনেকে, কারণ তিনিও প্রথম থেকেই এসআইআর-এর বিরোধিতা করছেন।
প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য হল মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, নন-ইন্ডিয়ান নাগরিক এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। বিহারের নির্বাচন ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এসআইআর নিয়ে রাহুল গান্ধীর প্রতিবাদ আদৌ কোনও কাজে আসেনি। এমতাবস্থায়, আগামী বছর বঙ্গের নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূলের এসআইআর-এর বিরোধিতা তাদের ভোটব্যাঙ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।