সুপ্রিম কোর্টে আজ লক্ষ শিক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণী শুনানি! টেট বাধ্যতামূলক নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ আদালত?

শিক্ষকদের চাকরি এবং পদোন্নতির জন্য টেট (TET) পাস বাধ্যতামূলক কিনা, সুপ্রিম কোর্টের ১ সেপ্টেম্বরের রায়ের পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘিরে দেশের হাজার হাজার শিক্ষকের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। আজ, সোমবার (১৭ নভেম্বর), এই বিষয়েই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হতে চলেছে শীর্ষ আদালতে, যা শিক্ষামহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

১ সেপ্টেম্বরের রায় ঘিরেই মূল বিতর্ক:
এই বিতর্কের মূলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ১ সেপ্টেম্বরের একটি রায়। ওই রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল—

চাকরিতে বহাল থাকতে এবং পদোন্নতি পেতে টেট পাশ বাধ্যতামূলক।

যাঁদের চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি বাকি আছে, তাঁদের অবশ্যই টেট উত্তীর্ণ হতে হবে।

এই রায় প্রকাশের পরই পশ্চিমবঙ্গের বিশাল শিক্ষক সমাজে উদ্বেগ ছড়ায়। এরপর পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) কর্মরত শিক্ষকদের স্বার্থে একটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করে।

নতুন মামলায় মূল আইনি চ্যালেঞ্জ:
আজ যে মামলাটি শুনানির জন্য উঠছে, সেটি কোনো রিভিউ পিটিশন নয়। এটি উত্তরপ্রদেশের ‘United Teachers Association’-এর দায়ের করা একটি নতুন রিট পিটিশন (সিরিয়াল ৮), যা সরাসরি ১ সেপ্টেম্বরের রায়ের আইনি ভিত্তিকেই প্রশ্ন করছে।

মামলার প্রধান ভিত্তিগুলি হলো:

নিয়োগ-সময়ের নিয়ম: আবেদনকারীদের দাবি, তাঁদের যখন নিয়োগ করা হয়েছিল, তখন টেট পাস বাধ্যতামূলক ছিল না। পুরনো চাকরিতে হঠাৎ নতুন শর্ত চাপানো আইনিভাবে অন্যায়।

আইনি চ্যালেঞ্জ: এনসিটিই (NCTE)-এর ২০১৭ সালের এক সংশোধনী এবং শিক্ষার অধিকার আইনের কিছু ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, এনসিটিই এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে। এই মামলার পর্যবেক্ষণের ওপরই পশ্চিমবঙ্গের দাখিল করা রিভিউ পিটিশনের ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হতে পারে।

দেশের কয়েক লক্ষ শিক্ষক আজ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।