অকেজো জমিতেও স্বপ্ন! এক বিঘা থেকে ২০ হাজার আয়, মিলেট চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন কালচিনির সোনম লামারা

ধানের তুলনায় অনেকটাই বেশি লাভজনক হওয়ায় মিলেট (Millets) চাষের দিকে ঝুঁকছেন কালচিনি ব্লকের কৃষকরা। প্রায় দু’দশক পর এই এলাকায় মিলেট চাষে সফলতা মেলায় স্থানীয় কৃষক মহলে নতুন করে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে এলাকার ফাঁকা পড়ে থাকা জমিতেও এই চাষের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তাঁরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, পূর্বে কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় এই চাষ হলেও বীজের অভাবে মিলেট চাষ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। তাই অধিকাংশ কৃষকই মূলত ধান চাষে মনোযোগ দিয়েছিলেন।

কৃষি দফতরের বীজে সাফল্য

তবে এবছর কালচিনি ব্লকজুড়ে কৃষি দফতরের তরফে মিলেটের বীজ প্রদান করা হয়। আর এই উদ্যোগেই বাজিমাত করেছেন ব্লকের পূর্ব সাতালি সহ অন্যান্য এলাকার কৃষকরা। মিলেট চাষ কেমন হবে, সেই সংশয়ে প্রথমদিকে অনেকে আগ্রহ না দেখালেও, বর্তমানে ফলন ও বাজারে তার চাহিদা জানার পর সকল কৃষকই এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষক সোনম লামা জানান, “এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করে যেখানে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় হয়, সেখানে এই মিলেট চাষে আয় হবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।” অর্থাৎ ধান চাষের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি লাভ মিলছে।

পুষ্টিগুণ ও কম সময়ে দ্বিগুণ মুনাফা

এই চাষ শুধু লাভজনকই নয়, ধান চাষের থেকে সময়ও কম লাগে। কৃষকদের দাবি, মিলেট পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা প্রচুর। গত কয়েক বছরে এর চাষ সেভাবে না হওয়ায় মিলেটের তৈরি সামগ্রীও বাজারে খুব বেশি পাওয়া যায় না। যার কারণেই এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মিলেট চাষকে একটি স্থায়ী লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখছেন কালচিনির কৃষকরা।