বিজাপুরে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বিরাট সাফল্য, ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান এলাকায় সংঘর্ষে খতম ৬ মাওবাদী, আটক ৪ আহত

ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাওবাদীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে ৬ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। বিজাপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে ইন্দ্রাবতী জাতীয় উদ্যান এলাকায় এই গুলির লড়াই শুরু হয়।

সংঘর্ষের বিবরণ:

বিজাপুরের কান্দুলনার জঙ্গলে মোদকপাল থানা এলাকার কান্দুলনার থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে এই এনকাউন্টারটি ঘটে। এসপি জিতেন্দ্র যাদব জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকেই বিজাপুরের জাতীয় উদ্যান এলাকায় মাওবাদীদের উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে ডিআরজি বিজাপুর, ডিআরজি দান্তেওয়াড়া এবং এসটিএফের একটি যৌথ দল মাওবাদী বিরোধী অভিযান চালাচ্ছিল।

ওই অভিযান চলাকালীন, অতর্কিতে মাওবাদীরা গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। দফায় দফায় গুলির লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত ৬ জন মাওবাদীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং নিহত মাওবাদীদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধার, ৪ জন মাওবাদী আটক:

পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র যাদব নিশ্চিত করেছেন যে, এনকাউন্টারের ঘটনাস্থল থেকে ৬ জন মাওবাদীর দেহ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে:

স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ইনসাস (INSAS)

স্টেনগান

৩০৩ রাইফেল-সহ অন্যান্য অস্ত্র এবং বিস্ফোরক।

এসপি আরও জানান, সংঘর্ষের পর তারলাগুড়া রোডের দিকে পালিয়ে যাওয়া ৪ জন আহত মাওবাদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা পরে তাদের ধরে ফেলে।

অভিযান চলছে:

এই অভিযানে ডিআরজি, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং কোবরা ফোর্সের একটি যৌথ দল মিলিতভাবে কাজ করছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে এবং কোনও মাওবাদী যাতে পালাতে না পারে সেজন্য এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে।

বিজাপুর জেলার এই জাতীয় উদ্যান এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। আজকের এনকাউন্টারকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহত মাওবাদীদের জন্য সরকার কর্তৃক মোটা অঙ্কের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।

এই বছর ২৫৯ মাওবাদী নিহত:

সর্বশেষ অভিযান মিলিয়ে এ বছর ছত্তিশগড়ে এনকাউন্টারে ২৫৯ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বাস্তার বিভাগে ২৩০ জন এবং রায়পুর বিভাগের অন্তর্গত গড়িয়াবন্দ জেলায় ২৭ জনকে খতম করা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের কাছে গুজবে গুরুত্ব না দিয়ে যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে পুলিশকে অবিলম্বে জানানোর জন্য আবেদন করেছে।