তামিলনাড়ুতে মন্দিরে নৃশংসতা! লুঠে বাধা দেওয়ায় ২ নিরাপত্তারক্ষীকে কুপিয়ে খুন, এলাকায় উত্তেজনা

তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার রাজাপালয়মের কাছে একটি মন্দিরে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাতে দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে মন্দিরের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে টাকা লুঠ করার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্তরা, আর তাতে বাধা দেওয়ার ফলেই এই নৃশংস খুন।
মৃত দুই নিরাপত্তারক্ষীর নাম হলো পেচিমুথু (৬০) এবং শঙ্কর পাণ্ডিয়ান (৫০)। তাঁরা দুজনেই নাচাডাই থাভিরথু অরুলাসস্বামী মন্দিরে রাতের ডিউটিতে ছিলেন। মন্দিরটি সরকারি সংস্থা এইচয়ার ও এইচসি-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
সকালের ডিউটিতে এসে সহকর্মীদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার
বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ দিনের ডিউটিতে আসেন তৃতীয় পাহারাদার মাদাস্বামী। তিনি মন্দিরের মূল ফটকের ছোট দরজাটি সামান্য খোলা দেখতে পান। ভেতরে ঢুকেই তিনি দেখেন দুই সহকর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাঁদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরপরই তাঁর নজরে আসে যে মন্দিরের দানবাক্সটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।
মাদাস্বামী সঙ্গে সঙ্গে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “এটা পরিষ্কার খুন ও লুঠের ঘটনা। পাহারাদাররা বাধা দেওয়ায় দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়। আমরা খুব তাড়াতাড়ি দোষীদের ধরে ফেলব।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার জন্য ফরেনসিক দল ও ডগ স্কোয়াটকে কাজে লাগিয়েছে। পাশাপাশি মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খুনিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত দেহ না নেওয়ার দাবিতে মৃতদের আত্মীয়-স্বজনরা মন্দিরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিশ দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।