লালকেল্লা বিস্ফোরণে ‘হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম’! জইশ জঙ্গি সন্দেহে ৩ কাশ্মীরি চিকিৎসক তদন্তের কেন্দ্রে

দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে এবার এক নতুন এবং উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এই ঘটনাকে ‘হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম’ হিসাবে বর্ণনা করেছে, যেখানে উচ্চশিক্ষিত পেশাদার, বিশেষত চিকিৎসকদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
শ্রীনগরে জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সমর্থনে পোস্টার পড়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং দিল্লিতে এই নেটওয়ার্কের সন্ধান পায়।
৩ চিকিৎসকের নাম এবং বিস্ফোরক উদ্ধার
বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন কাশ্মীরি চিকিৎসক—আদিল আহমেদ রাথের, মুজাম্মিল শাকিল এবং উমর মহম্মদ—তদন্তের আওতায় এসেছেন। সাহারানপুর (ইউপি) থেকে আদিল এবং ফরিদাবাদ (হরিয়ানা) থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা ফরিদাবাদের হাসপাতাল চত্বর থেকে উদ্ধার হওয়া ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটকে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক বলে সন্দেহ করছেন।
এছাড়াও, শ্রীনগরে পোস্টার মামলার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বুরা গ্রাম থেকে ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা কর্মকর্তা তারিক আহমেদ মালিককে সোমবার দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
গাড়ি হাতবদল এবং উমরের ভূমিকা
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিট নাগাদ লালকেল্লার কাছে একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা হুন্ডাই আই২০ (নম্বর HR26CE7674) গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে জানা যায়, গাড়িটি সলমন নামে নিবন্ধিত হলেও সেটি দেবেন্দ্র, আমির এবং তারিক মালিকের হাত ঘুরে অবশেষে ডা. উমর মহম্মদের কাছে পৌঁছেছিল।
পুলিশের সন্দেহ, উমর মহম্মদই গাড়িটি বিস্ফোরণস্থলে এনেছিলেন এবং গাড়িতে রাখা বোমার ট্রিগার চেপে দেন। বিস্ফোরণের আগের সিসিটিভি ফুটেজে উমরের মুখের কিছু অংশ দেখা গেছে। উমরের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা এই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন যে সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং বিপুল বিস্ফোরক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর হতাশাগ্রস্ত উমর আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছেন কি না।
পেশাদারদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, চিকিৎসকদের মতো উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকাটা জঙ্গি নিয়োগে একটি আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, এই ‘হোয়াইট কলার’ নেটওয়ার্ক এনক্রিপ্ট করা চ্যানেল ব্যবহার করে শিক্ষাদান, সমন্বয়, তহবিল পরিচালনা এবং অস্ত্র সংগ্রহের কাজ করত। ডা. আদিল অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এবং ডা. মুজাম্মিল আল ফালাহ স্কুল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। মুজাম্মিলের সহকর্মী ডা. শাহিন শাহিদ-কেও অস্ত্র উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই বিস্ফোরণ মামলায় সন্ত্রাস দমন আইন (UAPA)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিতে পারে।