কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় বিজেপি এজেন্টকে মারধর ও জুতোর মালা পরিয়ে হেনস্থা, SIR প্রক্রিয়াকে ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা

রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই বুথ স্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এবার কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA-2) নিবাস দাসকে মারধর ও চরম অপমান করার উদ্দেশ্যে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ মাথাভাঙ্গা ১ ব্লকের পচাগড় পঞ্চায়েতের ছাটখাটেরবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
কীভাবে ঘটল ঘটনা: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৩৯ নম্বর বুথে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য SIR অভিযানের আওতায় ফর্ম বিলির কাজ চলছিল। বিজেপির এজেন্ট নিবাস দাস নিয়ম মেনে সেখানে প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও ভোটারদের সহায়তা করছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, এই সময় আচমকাই তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও সমর্থকরা বুথ এলাকায় জড়ো হয়। অভিযোগের তালিকায় বুথ লেভেল অফিসার (BLO) নিশিথ রায়-এর নামও রয়েছে।
অভিযোগ, শাসকদল সমর্থকরা কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিজেপি এজেন্ট নিবাস দাসকে ঘিরে ধরে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করে। এরপর জনসমক্ষে তাঁকে চড়, ঘুসি ও লাথি মারা হয়। এখানেই না থেমে, তাঁকে চরম অপমান করতে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসেন। পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে বুঝে মাথাভাঙ্গা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত নিবাস দাসকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
বিজেপির অভিযোগ ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: মাথাভাঙ্গা বিজেপির নেতা সুশীল বর্মন এই ঘটনাকে “গণতন্ত্রকে অপমান করার ঘটনা” বলে দাবি করে তিনজনের বিরুদ্ধে মাথাভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, BLO নিশিথ রায়-সহ আরও তিনজনের নামে নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
যদিও অভিযুক্ত BLO নিশিথ রায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, “আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করছি। তবে এ ধরনের কাজকে দল কখনই সমর্থন করে না। রাজনীতিতে সহিংসতা ও অশালীন আচরণের কোনও স্থান নেই।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, SIR কর্মসূচির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শাসক-বিরোধী সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে বুথ স্তরে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে।