ভারতে আসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রশংসা করলেন ‘মহান বন্ধু’ মোদীর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং আগামী বছর ভারত সফরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে “মহান বন্ধু” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করাই তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, “তিনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) চান আমি সেখানে যাই। আমরা এটি বিবেচনা করব, আমি সেখানে যাব।” এর মাধ্যমেই ট্রাম্প তাঁর ভারত সফরের জল্পনা উসকে দেন। পরবর্তী বছর তিনি ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন কি না— এই সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প উত্তর দেন, “হয়তো, হ্যাঁ।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দেয় এবং নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রতিফলিত করে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে চুক্তি দ্রুত এগিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি আবারও উল্লেখ করেন যে তাঁর প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে

ট্রাম্প বলেন, “তিনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) মূলত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি আমার একজন বন্ধু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন মহান ব্যক্তি এবং আমরা কথা বলি… প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন মহান ব্যক্তি এবং আমি সেখানে যাব।”

এর আগে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ভারতকে “আমেরিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার” হিসাবে বর্ণনা করেন। লেভিট জানান, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে সিরিয়াস। তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসে দীপাবলি উদযাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন।”

উল্লেখ্য, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারত থেকে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপটি ভারতের রাশিয়ান তেল ক্রয় এবং BRICS-এ অংশগ্রহণের ওপর অসন্তুষ্টির কারণে হয়েছিল বলে জানা যায়। এই শুল্কের ফলে ভারতের প্রায় ৪৮.২ বিলিয়ন ডলারের রফতানিতে প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি সম্ভাব্য আঘাত। এই শুল্কের চাপের মধ্যেই ট্রাম্পের ভারত সফর এবং বন্ধুত্বের বার্তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।