পতিত জলাভূমিতে ‘আশার আলো’ পানিফল চাষ! স্বল্প বিনিয়োগে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করে কৃষকের মুখে হাসি

শীতের আগমনের আগেই বাজারে দেখা মিলছে শীতকালীন জনপ্রিয় জলজ ফল—পানিফল (Water Chestnut)। জলে জন্ম নেওয়া, ত্রিকোণ আকৃতির এই ফল (যা অনেকে শিংড়া নামেও চেনেন) এখন বাংলার প্রান্তিক কৃষকদের জীবিকা ও স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার মিনাখা, বাদুড়িয়া, বসিরহাট এবং স্বরূপনগরের মতো এলাকায় কৃষকরা পতিত জলাভূমিতে এই চাষে ব্যস্ত।
আগে যে জমি বছরের পর বছর অনাবাদী পড়ে থাকত, সেই জমিতেই পানিফল চাষ এনেছে নতুন আশার আলো। কৃষকরা জানাচ্ছেন, মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘা জমিতে এই ফলের চাষ করে কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ পাচ্ছেন। জলজ পরিবেশে সহজেই বেড়ে ওঠায় এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই চাষের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম। স্বল্প খরচে ভালো লাভ হওয়ায় এটি এখন গ্রামীণ অর্থনীতির এক লাভজনক মৌসুমি ফসল।
সুস্বাদু ফল ও তার স্বাস্থ্যগুণ:
ইংরেজি নাম Water Chestnut হলেও এই ফলকে অনেকে ‘জলের বাদাম’ নামেও চেনেন। এই জলজ উদ্ভিদটি লতানো প্রকৃতির, যার শিকড় জলের নিচে থাকে এবং পাতাগুলি উপরে ভেসে ওঠে। ফল কাঁচা, সিদ্ধ, রান্না বা শুকিয়ে আটা তৈরি করেও খাওয়া যায়।
পানিফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি স্বাস্থ্যগুণেও ভরপুর। ফলটিতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হজমশক্তি ভালো রাখে, ক্লান্তি কমায় এবং ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে। এর প্রক্রিয়াজাত আটা দিয়ে তৈরি পিঠে, কেক ও বিস্কুট চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়। প্রাচীন ইতিহাস বলছে, প্রায় তিন হাজার বছর আগে থেকেই চীনে এর চাষ শুরু হয়েছিল।
বর্তমানে ভারতসহ পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জাপান এবং আফ্রিকার বহু দেশে এর চাষ হয়। শীতের আগমনী দিনে তাই বাংলার জলাভূমি জুড়ে এখন ভাসছে সম্ভাবনার ফল—পানিফল, যা পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার এক দুর্দান্ত উপায়।