জাল পাসপোর্ট কাণ্ডে নদিয়ার চাকদহে ফের ED হানা! কাঠ মিস্ত্রি বিপ্লব সরকারের মাটির বাড়িতে মিলল একাধিক সন্দেহজনক নথি

জাল পাসপোর্ট কাণ্ডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ফের নড়েচড়ে বসেছে। সোমবার ভোরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নদিয়ার চাকদহের পরারি গ্রামে হানা দেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল এক কাঠ মিস্ত্রি, বিপ্লব সরকারের টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়ি। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ হলেও, এই বাড়িতেই তল্লাশি চালিয়ে মিলেছে একাধিক সন্দেহজনক নথি। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলছে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ।
উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং যোগসূত্র
ইডি সূত্রে খবর, বিপ্লব সরকারের বাড়ি থেকে একাধিক পাসপোর্ট ও নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। ইডি আধিকারিকরা এখন সেই নথিগুলির উৎস, সেগুলি তৈরি করার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রার রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও একে একে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই তদন্তের সূত্র ধরেই সম্প্রতি পাকিস্তানি নাগরিক আজাদ মল্লিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ, সে ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাসপোর্ট জালিয়াতি করেছিল। সেই মামলার ছায়া পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার সীমান্ত জুড়ে। এই চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ইন্দুভূষণ হালদার নামে এক অভিযুক্ত ধৃত হয়েছে, যিনি আজাদের পাসপোর্ট নবীকরণে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে ইডি দাবি করেছে।
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য বলছে, চাকদহের ইন্দুভূষণের সাইবার ক্যাফে থেকেই অন্তত সাড়ে তিনশো ভুয়ো পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই কাঠ মিস্ত্রি বিপ্লব সরকারের নাম উঠে আসে।
ইডি-র নজর এখন কিসের উপর?
ইডি এখন খতিয়ে দেখছে, বিপ্লব সরকারের কোনও বাংলাদেশি সংযোগ রয়েছে কি না। তাঁর ব্যাংক লেনদেন, পাসপোর্টের ট্রাভেল হিস্ট্রি, এবং মোবাইল ডেটা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিপ্লব সরকারের ভাই বিপুল সরকার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নথি ও পরিচয়পত্র যাচাই চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বিপ্লব ও বিপুল পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও তাঁদের ঘিরে এই হঠাৎ ইডি অভিযান গ্রামে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ইডি আধিকারিকরা উদ্ধার হওয়া নথি বাইরে বসে একে একে যাচাই করছেন। বিকেল পর্যন্ত চলেছে এই তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ।
চাকদহের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জাল পাসপোর্ট চক্রের এমন নতুন পরত উন্মোচনে ইতিমধ্যেই তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।