দুমড়ে মুচড়ে গেল মোটরবাইক! জামাই ফোঁটার দিনে আনন্দ পরিণত হলো বিষাদে, ঘাতক লরির চালক পলাতক

ভাইফোঁটার ঠিক আগের দিন, জামাইফোঁটার প্রাক্কালে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় উৎসবের আনন্দ পরিণত হলো বিষাদে। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর থানার আধকাটা সংলগ্ন এলাকায় ছয় চাকা লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও দুজন।
মৃত যুবকের নাম দেব সরদার (২২), বাড়ি বিষ্ণুপুর থানার বেলশুলিয়া এলাকায়। আহতরা হলেন দীনবন্ধু সরদার (মৃতের মামাতো ভাই, বাড়ি খড়কাটা গ্রামে) এবং সুকদেব পণ্ডিত (মৃতের জামাইবাবু, বাড়ি গড়বেতা থানার মোহনপুরে)।
জানা গেছে, আজ জামাই ফোঁটা উপলক্ষ্যে জামাই সুকদেব পন্ডিত শ্বশুরবাড়ি বেলশুলিয়া গ্রামে আসছিলেন। তিনি গরবেতা থেকে বাসে করে বাঁকাদহ বাসস্ট্যান্ডে নামেন। জামাইবাবুকে নিয়ে আসার জন্য দুই ভাই দেব সরদার এবং দীনবন্ধু সরদার একটি মোটর বাইকে করে বাঁকাদহ যান। এরপর জামাইকে নিয়ে তিনজন মিলে মোটরবাইকে বেলশুলিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মোটরবাইকটি চালাচ্ছিলেন দেব সরদার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, আধকাটা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে উল্টোদিক থেকে আসা একটি ছয় চাকা লরির সঙ্গে তাঁদের মোটরবাইকের সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনজনই ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান এবং মোটরবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে লরির ভিতরে ঢুকে যায়। অচৈতন্য অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন তাঁরা।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বাসিন্দা ও বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেব সরদারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত দীনবন্ধু সরদার ও সুকদেব পন্ডিতের চিকিৎসা চলছে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। তাঁদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মৃত যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘাতক লরিটিকে আটক করা হলেও, চালক ও খালাসি পলাতক রয়েছে।