অলৌকিক! এই মন্দিরে দরজা তৈরি করলেই সকালে উধাও! বারাসাতের ডাকাত কালীর জাগ্রত মাহাত্ম্যে কাঁটা দেবে শরীরে

বারাসাতের কাঠোর রোডের ‘ডাকাত কালীবাড়ি’ শুধু প্রাচীনত্বের জন্যই নয়, এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনার জন্য আজও স্থানীয়দের কাছে এক জাগ্রত তীর্থস্থান। মন্দিরটিতে নেই কোনো দরজা— আর সেই না থাকার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক গায়ে কাঁটা দেওয়া রহস্য!

সেবাইত সোমনাথ ব্রহ্মচারী জানান, এই প্রাচীন মন্দিরে যতবারই দরজা করার চেষ্টা হয়েছে, ততবারই সকালে উঠে দেখা গিয়েছে দরজাটি উধাও! সেবাইতের দাবি, স্বয়ং জাগ্রত মা কালী নাকি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন, তাই কোনো দ্বারের প্রয়োজন হয় না।

বারাসাতের পুরনো কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম এই ‘ডাকাত কালীবাড়ি’র সঙ্গে জড়িয়ে আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো একটি অশ্বত্থ গাছই এখানে পুজিত হয়— কোনো প্রতিমা নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই মন্দিরে কোনো পুরোহিত দিয়ে পুজো হয় না। ভক্তরা মায়ের কাছে এসে মনস্কামনা জানিয়ে, নমস্কার করে, মোমবাতি-ধূপকাঠি জ্বালিয়ে নিজেই নিজেকে পুজো করতে পারেন।

রঘু ডাকাতের প্রধান আস্তানা:

শোনা যায়, একসময় রঘু ডাকাত এই মন্দির থেকেই পুজো করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বের হতেন এবং ডাকাতি শেষে দলবল নিয়ে এখানেই ফিরে আসতেন। এটাই ছিল তাঁর প্রধান আস্তানা। একসময় বারাসত পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের এই এলাকায় মানুষজন আসতে ভয় পেতেন।

বর্তমানে বারাসাত পুরসভা মন্দির চত্বরটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। তবে এর বেশি কোনো সংস্কার করতে রাজি নন কেউই। কারণ প্রাচীন এই মন্দির বা গাছের কোনো ক্ষতি হলেই সর্বনাশ হতে পারে— এই আশঙ্কায় রঘু ডাকাতের এই আস্তানা আজও একই রকম পুরনো রূপে রয়ে গিয়েছে।

মন্দিরটির ছাদ বলতে শুধু অশ্বত্থ গাছের শিকড়। জানা যায়, মন্দিরের ইটগুলিও রঘু ডাকাত ও তাঁর দলবলই কাঠের ডাইস বানিয়ে তাতে মাটি দিয়ে তৈরি করেছিলেন। জেলার অন্যতম এই প্রাচীন কালী মন্দিরে প্রতি বছর কালী পুজোয় বিশেষ যোগ্য বলির আয়োজন করা হয়। দূরদূরান্তের মানুষের কাছে এই ডাকাত কালীবাড়ি আজও একইভাবে জাগ্রত। যদিও স্থানীয়দের মতে, এই প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে।