‘দালালি করে খাই না, চাকরি বিক্রি করি না’! নির্বাচনের আগে বনগাঁ তৃণমূলে তুমুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, জেলা সভাপতিকে আক্রমণ

আর কয়েকমাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এবার সেই কোন্দল স্পষ্ট হল তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলায়। দলের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসকে সরাসরি আক্রমণ করলেন বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি সৌমেন দত্ত।
সৌমেন দত্ত বিশ্বজিৎ দাসকে নিশানা করে তীব্র ভাষায় বলেন, “আমি দালালি করে খাই না। তোলা তুলে খাই না। চাকরি বিক্রি করে খাই না।” শুধু তাই নয়, নাম না করেই জেলা সভাপতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান মমতাবালা ঠাকুরও।
আসলে, গত কয়েকদিন ধরেই বিশ্বজিৎ দাস এবং মমতাবালা ঠাকুরের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি গোপালনগরে এক বিজয়া সম্মিলনীতে দলের একাংশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্বজিৎ দাস বলেছিলেন, “দলের মধ্যে উপদল করা যাবে না। প্রধানের কাজ চালাচ্ছে পরিবারের লোক, এটা করা যাবে না।”
এর পাল্টা জবাব দিতেই শুক্রবার গোপালনগরের বৈরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজয়া সম্মিলনী থেকে সরব হন বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি সৌমেন দত্ত। তিনি বিশ্বজিৎ দাসের নাম করে বলেন, “আমি সাত বার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হয়েছি। একবার হেরে গিয়েছিলাম। দলের একাংশ হারিয়ে দিয়েছিল। সেই সময় ভূমিকা ছিল এই বিশ্বজিৎ দাসের।”
২০১৯ সালে বিশ্বজিৎ দাস বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং একুশের নির্বাচনের পর ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। এই বিষয়টি তুলে ধরে জেলা সভাপতিকে খোঁচা দিয়ে সৌমেন দত্ত আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছে। ২০১৯ সালে দলকে ভাসিয়ে অন্য দলে গিয়েছিল। তারা জ্ঞান দেবে আর আমাদের শুনতে হবে? আমি ব্যবসা করে খাই। তোলা তুলে খাই না। চাকরি বিক্রি করে খাই না। সভাপতির বাড়ি যারা পাহারা দেবে, তারা পদ পাবে। ওরকম নেতা হতে আমরা চাই না।”
অন্যদিকে, সৌমেন দত্তের মতো সরাসরি নাম না নিলেও বিশ্বজিৎ দাসকে কটাক্ষ করেছেন মমতাবালা ঠাকুর। তিনি বলেন, “যিনি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তিনি ২০২১ সালে কী করেছেন। আবার দলে ফিরে এসেছেন।” যদিও তিনি প্রকাশ্যে দলে কোনো গোষ্ঠীকোন্দল নেই বলেই দাবি করেন।
দলের দুই নেতা-নেত্রীর এই আক্রমণের জবাব দিয়েছেন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসও। তিনি ওই বিজয়া সম্মিলনীকে অবৈধ বলে দাবি করে বলেন, “ওই মিটিং বৈধ নয়। দলের কাছ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” এরপরই তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা পদে থেকেও দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না। দল বারবার হারছে। আমি তাঁদের কথা বলেছি। তাঁদের প্রতি কর্মীদের অসন্তোষ রয়েছে। যাঁদের আঁতে ঘা লাগছে, তাহলে বুঝতে হবে ডালমে কুচ কালা হে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে বনগাঁ তৃণমূলের এই প্রকাশ্যে কোন্দল দলের অস্বস্তি আরও বাড়াল।